ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

[ জাতীয় ]

প্রিপেইড মিটারের যেকোনো তথ্যে চালু হটলাইন ১৬৯৯৯

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৫০, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রিপেইড মিটারের যেকোনো তথ্যে চালু হটলাইন ১৬৯৯৯
সংগৃহীত ছবি

বিদ্যুৎ ব্যবহারের খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রাহকদের প্রিপেইড মিটারে উৎসাহিত করতে রিচার্জ করা অর্থের ওপর শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ রিবেট (ছাড়) দিচ্ছে সরকার। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাহকরা খুব সহজেই আগেভাগে টাকা রিচার্জ করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারেন।

পাশাপাশি মিটারের ডিজিটাল ব্যালেন্স ও ব্যবহারের হিসাব সরাসরি দেখে নিজের মতো করে খরচ নিয়ন্ত্রণের সুযোগ রয়েছে। তবে এই ব্যবস্থার সার্বিক সুবিধা ও ব্যবহারবিধি সম্পর্কে গ্রাহকদের মাঝে সচেতনতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রিপেইড মিটারের ব্যালেন্স মোবাইল ব্যাংকিং, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, ব্যাংকের নির্দিষ্ট বুথ এবং বিতরণ সংস্থার ভেন্ডিং স্টেশন থেকে খুব সহজেই রিচার্জ করা যায়। অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্স কমে এলে মিটারে সতর্কসংকেত বেজে ওঠে। এছাড়া নির্ধারিত ‘ফ্রেন্ডলি আওয়ারে’ ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলেও জরুরি ক্রেডিট সুবিধায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

প্রিপেইড মিটার ব্যবহারে মাস শেষে অতিরিক্ত বা বড় অঙ্কের বিল আসার কোনো আশঙ্কা থাকে না। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা সালেহ হাসান জানান, মাসের শুরুতে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা রিচার্জ করে তিনি সেই হিসাব অনুযায়ী বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। মিটারে সবসময় অবশিষ্ট টাকার পরিমাণ দেখা যাওয়ায় বিদ্যুৎ অপচয় রোধে তিনি এখন অনেক বেশি সচেতন। বগুড়ার নেসকো গ্রাহক মুজাহিদ শেখও একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, আগে মাস শেষে বিল কত আসবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও এখন পরিকল্পনা অনুযায়ী খরচ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, প্রিপেইড মিটার চালুর ফলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার রিডিং নেওয়া কিংবা বিল তৈরি ও বিতরণের ঝামেলা থাকে না। এতে একদিকে যেমন জনবল ও যাতায়াত ব্যয় কমে, অন্যদিকে অগ্রিম রাজস্ব আদায়, সিস্টেম লস হ্রাস, উন্নত লোড ব্যবস্থাপনা এবং বিলিংয়ে শতভাগ নির্ভুলতা নিশ্চিত হয়। এছাড়া ভাড়া বাসা ও সরকারি আবাসনে দীর্ঘদিনের বিলিংসংক্রান্ত জটিলতা কমাতেও এটি দারুণ ভূমিকা রাখছে।

প্রিপেইড সংযোগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাড়তি নিরাপত্তা জামানত জমা দিতে হয় না। আবাসিক গ্রাহকদের অনুমোদিত প্রতি কিলোওয়াট লোডের জন্য মাসিক ৪২ টাকা ডিমান্ড চার্জ এবং ৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। এছাড়া বিতরণ সংস্থার সরবরাহ করা সিঙ্গেল ফেজ মিটারের মাসিক ভাড়া ৪০ টাকা এবং থ্রি ফেজ মিটারের ভাড়া ২৫০ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। প্রথম রিচার্জের সময় এসব চার্জ সমন্বয় করার পর বাকি টাকার ওপর শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ রিবেট যোগ হয়ে থাকে।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যানশিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম বলেন, প্রিপেইড মিটার নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মনে থাকা বিভিন্ন উদ্বেগ ও ভুল ধারণা দূর করতে সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। বিতরণ সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রচারণা চালিয়ে এর ব্যবহারবিধি ও সুবিধাগুলো তুলে ধরা উচিত।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন বিতরণ সংস্থায় প্রিপেইড গ্রাহকের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এর মধ্যে ডিপিডিসির প্রায় ২০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে ১২ লাখ, নেসকোর ২৩ লাখের বেশি গ্রাহকের মধ্যে প্রায় ১৪ লাখ এবং ডেসকোর ১৪ লাখ ১১ হাজার গ্রাহকের মধ্যে ৯ লাখ ৫৬ হাজারেরও বেশি গ্রাহক প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করছেন। এ ছাড়া ওজোপাডিকোর ৬ লাখ ৬৬ হাজার এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের প্রায় ১৫ লাখ গ্রাহক প্রিপেইড ব্যবস্থার আওতায় এসেছেন।

নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান জানান, সরকারের পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের সব গ্রাহককে পর্যায়ক্রমে প্রিপেইড মিটারের আওতায় নিয়ে আসা হবে। ইতোমধ্যে নেসকোর ৬০ শতাংশের বেশি গ্রাহককে এই সেবায় যুক্ত করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নূর আহমদ বলেন, রিবেটসহ নানামুখী সুবিধার কারণে প্রিপেইড মিটারের মাধ্যমে গ্রাহকদের অপ্রয়োজনীয় খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমবে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল পদ্ধতির এই ব্যবহার এখন সময়ের দাবি। প্রিপেইড মিটার সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য বা অভিযোগ জানাতে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় হটলাইন নম্বর ১৬৯৯৯ চালু রাখা হয়েছে।

 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!