ছোট পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে এগোচ্ছে বাংলাদেশ
দেশে প্রথমবারের মতো স্মল মডিউলার রিঅ্যাক্টর (এসএমআর) বা ছোট আকৃতির পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। এরই অংশ হিসেবে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের (সিইইসি) একটি বিশেষজ্ঞ দল সম্প্রতি জামালপুরের মাদারগঞ্জের চর এলাকা পরিদর্শন করেছে।
স্মল মডিউলার রিঅ্যাক্টর হলো তুলনামূলক ছোট আকারের আধুনিক পারমাণবিক চুল্লি। এসব চুল্লির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ কারখানায় তৈরি করে মডিউল আকারে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে স্থাপন করা যায়। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) অনুযায়ী, এসএমআরের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা সাধারণত প্রতি ইউনিটে সর্বোচ্চ ৩০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত হয়ে থাকে।
.png)
অনলাইন সংবাদমাধ্যম জাস্ট এনার্জি নিউজকে বিপিডিবি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত মডিউলার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য চীনা প্রতিনিধিদের চারটি সম্ভাব্য স্থান দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহে তারা জামালপুরের মাদারগঞ্জের একটি স্থান পরিদর্শন করেছেন। শিগগিরই পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর আরেকটি সম্ভাব্য স্থানও পরিদর্শনের কথা রয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিপিডিবি ইতোমধ্যে সিইইসির সঙ্গে একটি অ-বাধ্যতামূলক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন স্থানে ২০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট সম্মিলিত ক্ষমতার ছোট ও মাঝারি আকারের পারমাণবিক মডিউলার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে।
তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সম্ভাব্য স্থানগুলোর প্রযুক্তিগত ও ভৌগোলিক উপযোগিতা যাচাই করা হবে। এরপর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে দেশের প্রথম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্রগতি ও উৎপাদনে যাওয়ার সময়সীমা নিয়েও অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছে বিপিডিবি।
বিপিডিবি চেয়ারম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, রূপপুরের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটের কাজের সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি সম্পর্কে বোর্ডের কাছে এখনো পরিষ্কার তথ্য নেই। বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম বা শুল্ক কত হবে, সে বিষয়েও এখনো চূড়ান্ত ধারণা পাওয়া যায়নি।
সিইইসি চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একটি বড় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলে বিস্তৃত।
বাংলাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে নতুন প্রযুক্তির উৎস হিসেবে ছোট মডিউলার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনা এখন যাচাই করা হচ্ছে। তবে সম্ভাব্য স্থান, প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক ব্যয়, নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদনসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনার পরই প্রকল্পের বাস্তবায়ন সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।