ঢাকা,  রোববার   ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

পে-ফিক্সেশনে ভুল হলে আটকে যেতে পারে বেতন

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:১৫, ৪ অক্টোবর ২০২৬
পে-ফিক্সেশনে ভুল হলে আটকে যেতে পারে বেতন
ছবি: সংগৃহীত

নতুন পে স্কেল কার্যকরের পর সরকারি চাকরিজীবীদের বাড়তি বেতন ও বকেয়া পাওনা নিয়ে আগ্রহ এখন সবচেয়ে বেশি। নতুন বেতন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণের (পে-ফিক্সেশন) কাজ শেষ হলে প্রায় তিন মাসের বকেয়া একসঙ্গে দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

তবে সবার বকেয়ার পরিমাণ সমান হবে না। সংশ্লিষ্ট চাকরিজীবীর গ্রেড, বর্তমান মূল বেতন, নতুন স্কেলে নির্ধারিত বেতন এবং বেতন কার্যকরের তারিখের ভিত্তিতে বকেয়া হিসাব করা হবে। অনলাইনে তথ্য দিতে কোনো সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার সহায়তা নেওয়া যাবে।

Advertisement

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পে-ফিক্সেশন কার্যক্রম আগামীকাল সোমবার (৫ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়ে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ পোর্টালে প্রবেশ করে চাকরিসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে হবে।

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে এই পে-ফিক্সেশন করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য থাকলে বেতন নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ কারণে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনলাইন প্রশিক্ষণও চলছে। ৫ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে বিভাগভিত্তিকভাবে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

পে-ফিক্সেশন হবে আইবাস প্লাস প্লাসের নির্ধারিত মডিউলে। সরকারি চাকরিজীবীদের সেখানে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, বর্তমান পদ ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ, বর্তমান মূল বেতন এবং আগের পে-ফিক্সেশনের তথ্য দিতে হবে। প্রয়োজনে পদোন্নতি, বদলি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও উচ্চতর গ্রেডসংক্রান্ত তথ্যও দিতে হবে।

এসব তথ্যের সমর্থনে থাকা অফিস আদেশ ও প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখতে হবে। তথ্য দেওয়ার আগে নাম, এনআইডি, জন্মতারিখ, পদবি, গ্রেড ও বেতনসংক্রান্ত তথ্য পুরোনো নথির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। পে-ফিক্সেশনের ভিত্তিতেই নতুন কাঠামোয় একজন চাকরিজীবীর মূল বেতন নির্ধারিত হবে। এরপর সেই হিসাব অনুযায়ী বেতন বিল ও বকেয়া পাওনার হিসাব তৈরি করা হবে।

পুরো প্রক্রিয়ায় প্রথমে চাকরিজীবী আইবাস প্লাস প্লাসে প্রবেশ করে পরিচয় ও চাকরিসংক্রান্ত তথ্য দেবেন। এরপর আগের বেতন ও চাকরির ইতিহাসের সঙ্গে মিলিয়ে নতুন কাঠামোয় প্রযোজ্য গ্রেড ও ধাপ নির্ধারণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় তথ্য ও নথিপত্র যাচাই করবে। কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন করতে হবে। যাচাই শেষে পে-ফিক্সেশন চূড়ান্ত করা হবে।

অর্থ বিভাগের সূত্র জানিয়েছে, নতুন স্কেলের বাড়তি বেতন পাওয়ার আগে সঠিকভাবে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করা গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সরকারি চাকরিজীবীদেরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য যাচাই ও পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান বলেন, পে-ফিক্সেশনের ক্ষেত্রে চাকরিজীবীর তথ্য ও সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ সঠিক থাকা জরুরি। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের যাচাইয়ের মাধ্যমে দ্রুত পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। অক্টোবর থেকেই সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন স্কেলের বেতন পাবেন বলে তিনি জানান। এ কারণে ২০ অক্টোবরের মধ্যে পে-ফিক্সেশন শেষ করতে হবে।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর সরকার ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ জারি করে। নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন পে স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হলেও বর্ধিত মূল বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে ৫০ শতাংশ কার্যকর হবে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এ হার যথাক্রমে ৭০ ও ৭৫ শতাংশ হবে। ১ জুলাই ২০২৭ থেকে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিসহ নতুন মূল বেতন শতভাগ কার্যকর হবে।

এ ছাড়া নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত বিভিন্ন ভাতার হার ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকর হবে। এর আগে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিদ্যমান হারে ভাতা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!