ঢাকা,  রোববার   ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]
আজ বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস

জালে আটকে ১৯ বছরে মরেছে ২৫০ সামুদ্রিক প্রাণী

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৩৯, ৪ অক্টোবর ২০২৬
জালে আটকে ১৯ বছরে মরেছে ২৫০ সামুদ্রিক প্রাণী
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় গত ১৯ বছরে অন্তত ২৫০টি সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত প্রাণীদের বেশির ভাগই বিভিন্ন প্রজাতির ডলফিন ও তিমি। এসব প্রাণীর মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে ভূতুড়ে জাল ও ফাঁস জালে আটকে যাওয়াকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংস্থা ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটির (ডব্লিউসিএস) গবেষণা এবং বন অধিদপ্তর ও সংস্থাটির যৌথভাবে পরিচালিত জাতীয় বেজলাইন জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

Advertisement

জরিপে দেশের ৪৫টি নদীর মোট ৪ হাজার ৮৯৩ কিলোমিটার এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, ২০০৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ১২ বছরে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ এলাকায় ১০৮টি শুশুক ও ডলফিনের মৃত্যু হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২০ ও ২০২১ সালে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ছয়টি বড় আকৃতির তিমি ও বিভিন্ন প্রজাতির ৬০টি ডলফিন। ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত আরও ৭৬টি সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর মৃত্যুর প্রায় ৬৫ শতাংশের জন্য দায়ী ভূতুড়ে জাল ও ফাঁস জাল। এসব জালে আটকা পড়লে ডলফিন, তিমি ও অন্যান্য সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী পানির ওপরে উঠে শ্বাস নিতে পারে না। ফলে অক্সিজেনের অভাবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাদের মৃত্যু হতে পারে।

বর্তমানে দেশের নদী ও উপকূলীয় অববাহিকায় প্রায় ২ হাজার ৩০৭টি গাঙ্গেয় ডলফিন টিকে আছে। তবে সামুদ্রিক ও উপকূলীয় প্রাণীর মৃত্যু এবং তাদের আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে আসা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

শুধু সামুদ্রিক প্রাণী নয়, গত কয়েক দশকে দেশের বিভিন্ন বন্য প্রাণীর অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়েছে। আইইউসিএন বাংলাদেশের ২০১৫ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, গত ২৫ বছরে দেশে ৩১ প্রজাতির বন্য প্রাণী বিলুপ্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯ প্রজাতির পাখি, ১১ প্রজাতির স্তন্যপায়ী এবং এক প্রজাতির সরীসৃপ রয়েছে।

একই তালিকা অনুযায়ী, আরও ৯০ প্রজাতির প্রাণী বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। দেশের ৩৯০ প্রজাতির বন্য প্রাণী কোনো না কোনোভাবে বিপন্ন অবস্থায় আছে। এর মধ্যে ৫৬ প্রজাতি মহাবিপন্ন, ১৮১ প্রজাতি বিপন্ন এবং ১৫৩ প্রজাতি ঝুঁকিপূর্ণ।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যার অধ্যাপক ও বন্য প্রাণী গবেষক অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ বলেন, বাংলাদেশে বন্য প্রাণী বিলুপ্ত হওয়ার পেছনে মানবসৃষ্ট কারণই সবচেয়ে বেশি। প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস ও খাদ্যসংকটের কারণে প্রাণীরা টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ হারাচ্ছে। মানুষের হস্তক্ষেপ বাড়ায় বন, জলাশয় ও ঝোপঝাড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক আবাসস্থলও সংকুচিত হচ্ছে।

এদিকে ২০১৫ সালের পর বন্য প্রাণীর বর্তমান অবস্থা, সংখ্যা ও আবাসস্থলের পরিবর্তন জানতে আইইউসিএন বাংলাদেশ ও সরকার যৌথভাবে দেশের ‘লাল তালিকা’ হালনাগাদের কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো বিপন্ন সামুদ্রিক মাছের তালিকাও প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!