ঢাকা,  রোববার   ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

বিলাসবহুল গাড়ির মালিকদের খুঁজছে এনবিআর

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:১৮, ৪ অক্টোবর ২০২৬
বিলাসবহুল গাড়ির মালিকদের খুঁজছে এনবিআর
সংগৃহীত ছবি

দেশে প্রায় ৫ হাজার ৪৮৯টি উচ্চমূল্যের বা বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৩৯টির বেশি গাড়ির তথ্য মালিকদের আয়কর নথিতে অপ্রদর্শিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। অন্যদিকে প্রায় ২ হাজার ৭১৯টি গাড়ি মালিকদের কর নথিতে ঘোষণা করা হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

আয়কর রিটার্নের আওতা বাড়াতে বিলাসবহুল গাড়ির মালিকদের তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। এ লক্ষ্যে বিআরটিএর গাড়ির মালিকানা-সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে আয়কর নথি মিলিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মাঠপর্যায়ের কর কর্মকর্তাদের।

Advertisement

একই সঙ্গে বিলাসবহুল গাড়ির মালিকরা নিয়মিত আয়কর রিটার্ন দাখিল করছেন কি না, তাঁদের ঘোষিত আয় ও সম্পদের সঙ্গে গাড়ির মূল্যের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না এবং গাড়ি কেনার অর্থের উৎস কী—এসব বিষয়ও যাচাই করা হবে।

সম্প্রতি কর কমিশনারদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব এসব নির্দেশনা দেন। বৈঠকে কর ফাঁকি শনাক্তে কর অঞ্চলের অনুসন্ধান ও তদন্তদলকে আরও সক্রিয় করা, উৎসে কর কর্তনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানো এবং সঞ্চয়পত্রধারীদের রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করার বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, কর নথিতে অপ্রদর্শিত ১ হাজার ৩৩৯টি গাড়ির মধ্যে টয়োটা, বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ-বেঞ্জ, জিপ, ল্যান্ড রোভার, অডি, রেঞ্জ রোভার, পোর্শে, জাগুয়ার, বেন্টলি, রোলস-রয়েস, ক্যাডিলাক, মাসেরাতি, টেসলা, ফেরারি ও ল্যাম্বরগিনির মতো ব্র্যান্ডের গাড়ি রয়েছে।

এনবিআরের কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, এসব গাড়ির প্রতিটির দাম এক কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। গাড়ির ইঞ্জিন ক্ষমতা ও সিসির ভিত্তিতে এসব গাড়ির আমদানিতে তুলনামূলক বেশি শুল্ক-করও দিতে হয়।

কর কর্মকর্তারা মনে করছেন, কোনো ব্যক্তির ঘোষিত আয় ও সম্পদের সঙ্গে তাঁর মালিকানাধীন বিলাসবহুল গাড়ির মূল্যের বড় ধরনের অসামঞ্জস্য থাকলে তা কর ফাঁকির সম্ভাব্য ইঙ্গিত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে গাড়ি কেনার অর্থের উৎস এবং আয়কর রিটার্নে গাড়িটির তথ্য সঠিকভাবে দেখানো হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে।

এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি কর অঞ্চলের অনুসন্ধান ও তদন্তদল নিজ নিজ এলাকায় উচ্চমূল্যের গাড়ির মালিকদের তথ্য যাচাই করবে। যাঁরা নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করছেন না কিংবা রিটার্নে গাড়ির তথ্য গোপন করেছেন, তাঁদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে গত বছর সিআইসি ৪০৯ জন গাড়ির মালিকের সন্ধান পেয়েছিল, যাঁরা বিপুল অর্থ ব্যয়ে বিলাসবহুল গাড়ি কিনে বিআরটিএতে সেগুলোর নিবন্ধন নিয়েছিলেন। তবে তাঁদের আয়কর রিটার্ন দাখিলের তথ্য পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ গাড়ির মালিকানা থাকলেও তাঁরা আয়কর নথির আওতায় ছিলেন না।

এনবিআরের কর্মকর্তাদের মতে, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার তথ্যের সঙ্গে আয়কর নথির তথ্য সমন্বয় করা হলে কর ফাঁকির সম্ভাব্য ঘটনা শনাক্ত করা সহজ হবে। বিশেষ করে বিআরটিএর গাড়ির মালিকানা-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে আয় ও সম্পদের অসামঞ্জস্য চিহ্নিত করা সম্ভব। এতে একদিকে আয়কর রিটার্ন দাখিলের পরিধি বাড়বে, অন্যদিকে সম্ভাব্য কর ফাঁকিও শনাক্ত করা যাবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর/এমএ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!