ঢাকা,  রোববার   ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]
পদায়ন-বদলিতে কোটি টাকা ঘুষ

আসিফের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭:৫২, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আসিফের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে কোটি কোটি টাকা লেনদেন এবং বিদেশে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগের মধ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদায়ন ও পদোন্নতিতে অর্থ লেনদেন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম এবং টেন্ডার বাণিজ্যের কথাও রয়েছে।

গত ২ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। সংস্থাটি পরদিন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে আসিফ মাহমুদের দায়িত্বকালে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিসংক্রান্ত বিভিন্ন নথি চায়। এর মধ্যে ৩৮ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও নতুন পদায়নের নথিও রয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে থাকা অভিযোগ অনুযায়ী, ৩৮ কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করে নতুন পদায়নের আদেশ করিয়ে ৭৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৫০ সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য ১ কোটি ৫ লাখ টাকা এবং পদোন্নতির পর পছন্দের জায়গায় পদায়নের জন্য আরও প্রায় ২ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের অনুসন্ধানে চার সদস্যের একটি দল কাজ করছে।

Advertisement

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়াও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং দেশের ৩৬টি জেলায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার বাণিজ্য নিয়েও অভিযোগ করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানাধীন অভিযোগে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাৎ, ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের আরেকটি অংশে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগে বিপুল অর্থ লেনদেনের দাবি করা হয়েছে। 

এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদ হেলিকপ্টারে ভ্রমণ করে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় করেছেন। হোটেল ওয়েস্টিনসহ পাঁচ তারকা হোটেলে নিয়মিত যাতায়াত, বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস ও গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে বলা হয়েছে, দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। এসব অর্থ দিয়ে বিদেশে সম্পদ ও ব্যবসায় বিনিয়োগের অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এই বিপুল অর্থপাচারের দাবির পক্ষে কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের রায় এখনো প্রকাশিত হয়নি।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে তার নিজ উপজেলা মুরাদনগরের জন্য ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। প্রকল্পটির বরাদ্দ ও গ্রহণ প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ। তার বাবা বিল্লাল হোসেন ও এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় প্রশাসনের উপর প্রভাব খাটিয়ে অর্থ সংগ্রহ করতেন। এছাড়াও, তার পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়া ঘুস লেনদেনের তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন মর্মে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। 

এদিকে দুদকের অনুসন্ধান নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ। তার দাবি, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার বক্তব্যের কারণে তাকে নিয়ে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ তৈরি হয়েছে। অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে ১০ সেপ্টেম্বর দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলামকে আইনি নোটিশও পাঠিয়েছেন তার আইনজীবী।

অন্যদিকে দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান বলেছেন, অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাইয়ে ‘আমলযোগ্য’ বিবেচিত হওয়ায় অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু বলার সুযোগ নেই।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!