ঢাকা,  রোববার   ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

লোডশেডিংয়ের মধ্যে সুখবর, ফিরছে আদানির বিদ্যুৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৫৭, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লোডশেডিংয়ের মধ্যে সুখবর, ফিরছে আদানির বিদ্যুৎ
ছবি সংগৃহীত

কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-২ আজ রোববার জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে ফিরছে। ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি বেড়ে লোডশেডিংও বৃদ্ধি পেয়েছিল।

আদানি পাওয়ার রোববার সকালে এক বার্তায় জানিয়েছে, ইউনিট-২ নির্ধারিত সময়ের আগেই ভোর ৫টা ১৭ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়) সফলভাবে চালু করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে ইউনিটটি জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সিনক্রোনাইজ (সংযুক্ত) হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে দুপুরের আগেই এ ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।

Advertisement

জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় সংস্থা পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি) সূত্র জানায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

এর আগে রাত ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কেন্দ্রটির দুই ইউনিট থেকে ঘণ্টায় এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সরবরাহ কমে দাঁড়ায় ৭৫৮ মেগাওয়াটে।

এর আগেও কয়লা সরবরাহ সংকটে গোড্ডা কেন্দ্রটির উৎপাদন কমে গিয়েছিল। ঝড়ের কারণে গত ৭ আগস্ট থেকে কেন্দ্রটিতে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। পরে আগস্টের শেষ দিকে কয়লা সরবরাহ বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়তে শুরু করে।

উৎপাদন বাড়ার পর দিনের বেলায় কেন্দ্রটি প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল। এর মধ্যেই একটি ইউনিটে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে সেটি বন্ধ হয়ে যায়।

আদানি কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার সময় দেশের বিদ্যুৎব্যবস্থাও চাপে ছিল। গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ করা হয় প্রায় ১২ হাজার ৭৮৮ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় তিন হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট।

ওই দিন গড়ে প্রতি ঘণ্টায় দুই হাজার ৬৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৮০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে। ২০১৭ সালে কেন্দ্রটির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।

চাহিদা অনুযায়ী কেন্দ্রটি থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ড রয়েছে। ফলে বন্ধ থাকা ইউনিট-২ পুনরায় চালু হলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এম ইউ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!