নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হয়েছে। সরকার ‘জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬’ অনুমোদন করেছে। নতুন কাঠামোয় আগের মতোই ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে। তবে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।
সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। তবে বর্ধিত বেতনের আর্থিক সুবিধা একবারে দেওয়া হবে না। মূল বেতন তিন ধাপে সমন্বয় করা হবে। প্রথম ধাপে মূল বেতনের একটি অংশ কার্যকর হবে এবং পরবর্তী দুই ধাপে বাকি অংশ সমন্বয় করা হবে।
.png)
এ ছাড়া বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে। প্রতিটি গ্রেডে প্রস্তাবিত ধাপ সংখ্যাও অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে ১ম, ৮ম ও ৯ম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতনে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
| গ্রেড | পুরোনো প্রারম্ভিক মূল বেতন | নতুন প্রারম্ভিক মূল বেতন |
|---|---|---|
| ১ম গ্রেড | ৭৮,০০০ টাকা | ১,৫৬,০০০ টাকা |
| ৮ম গ্রেড | — | প্রস্তাবের তুলনায় সংশোধিত |
| ৯ম গ্রেড | — | প্রস্তাবের তুলনায় সংশোধিত |
| ২০তম গ্রেড | ৮,২৫০ টাকা | ২০,০০০ টাকা |
নতুন কাঠামোয় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতনের ব্যবধানও কমানো হয়েছে। বিদ্যমান বেতন কাঠামোয় এই অনুপাত ছিল ১:৯ দশমিক ৪৫। নতুন কাঠামোয় তা কমিয়ে ১:৭ দশমিক ৮ করা হয়েছে।
জাতীয় বেতন কমিশন ১ম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করেছিল। তবে সচিব কমিটি তা কমিয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করার সুপারিশ করে। শেষ পর্যন্ত নতুন বেতন কাঠামোয় ১ম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ৮ম ও ৯ম গ্রেডেও কমিশনের প্রস্তাবের তুলনায় বেতন বৃদ্ধির হার কমানো হয়েছে। এই দুই গ্রেডে কমিশন প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল। সচিব কমিটি তা কমিয়ে ১০০ শতাংশ করার সুপারিশ করে।
তবে অন্যান্য গ্রেডে কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী প্রারম্ভিক মূল বেতন বৃদ্ধির হার বহাল রাখা হয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। তবে বাড়তি আর্থিক সুবিধা ধাপে ধাপে সমন্বয় করা হবে। অর্থাৎ নতুন স্কেল অনুমোদিত হলেও সব সুবিধা একসঙ্গে হাতে পাবেন না সরকারি চাকরিজীবীরা।
প্রথম ধাপে মূল বেতনের একটি অংশ কার্যকর হবে। পরবর্তী দুই ধাপে বাকি অংশ সমন্বয় করা হবে। আর বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫-এর প্রস্তাব পর্যালোচনার সময় মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং দেশের আর্থসামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেয় সচিব কমিটি। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতনের ব্যবধানও পর্যালোচনা করা হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের প্রস্তাবের কিছুটা কাটছাঁট করে নতুন কাঠামো অনুমোদন করা হয়েছে। তবে ২০টি গ্রেড রাখা এবং ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব বহাল রাখা হয়েছে।