নিজ সম্পর্কে ধারণা সঠিক থাকলে নির্ভুলভাবে নিতে পারবেন জীবনের যে কোন পরিকল্পনা। ভবিষ্যৎ সাফলতার জন্য নিজের সামর্থ্য ও যোগ্যতার নিরিখে পরিকল্পিত উপায়ে অগ্রসর হতে হবে।
নিজের সাথে বোঝাপড়া
* নিজের জীবনের লক্ষ্য ঠিক করুন।
* জীবনের চুড়ান্ত পর্বে আপনি কি হতে চান।
* ৮/১০ বছর পরে আপনি নিজেকে কেমন অবস্থায়, কোন পদে, কোন পরিচয়ে সমাজে অধিষ্ঠিত হতে চান।
* কিভাবে আপনি ওই অবস্থায় উপনীত হতে পারেন।
* আপনি কি স্বতন্ত্র স্বাধীন কোন পেশায় নিযুক্ত হতে চান বা বিশেষ কোন ব্যবসা শুরু করতে চান।
* অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে কি আপনার আর কোনো ডিগ্রি বা অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দরকার।
* লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য কি আপনার জীবনযাত্রা, শিক্ষা ব্যবস্থা বা শিক্ষা পদ্ধতি থেকে সরে আসতে হবে।
* যদি তাই হয় তাহরে তা কতটা সম্ভব। তাতে আপনার ক্যারিয়ার কতটা লাভবান বা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। হিসেবগুলো নিজের সাথে যাচাই করে নিন।
.png)
ঠিক করুন আপনার কাজের ধরণ
- আপনি কেমন কাজ করতে চান। বসে কাজ করতে চান, না ঘুরে কাজ করতে চান।
- কতটা ঘুরতে চান শহরের মধ্যেই, না গ্রামেও যেতে চান।
- আপনি কি অন্যের আনুগত্য পছন্দ করেন। নাকি দায়িত্ব বুঝে নেয়ার পরে পূর্ণ স্বাধীনতা পেতে চান।
- আপনি কি প্রথা নির্দিষ্ট কাজ করতে ভালোবাসেন।
- আপনি ক প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কাজ করতে চান।
- আপনি একা না দলগত কাজ করতে পছন্দ করেন।
- অন্য কেউ বা উর্ধ্বতন কেউ আপনার কর্ম প্রণালী নির্দিষ্ট করে দিলে কি আপনি বেশী স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
- আপনি কি শুধুই টাকার জন্য কাজ করতে চান নাকি কাজের মাঝে জীবনের আনন্দ খুঁজতে চান।
- কোন বিশেষ কাজের জন্য আপনি কতদূর প্রস্তুত থাকেন।
- পূর্বতন চাকরি ক্ষেত্রে আপনি কতটা নির্ভরশীল কর্মী ছিলেন।
- সেই নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ করার উপায় কি।
- স্কুল-কলেজে পড়ার সময় লেখাপড়া ছাড়া আর কি কি যোগ্যতা ছিল আপনার।
- অন্যান্য যোগ্যতার প্রেক্ষিতে কি কি প্রশংসাপত্র আপনার হাতে রয়েছে।
- সংগঠক হিসেবে বা কোনো বিশেষ প্রজেক্টে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য আপনার কি কি অভিজ্ঞতা আছে।
কেমন হবে কাজের জগত
* আপনার যোগ্যতার কি কি কাজের সুযোগ রয়েছে। কি ধরণের সংস্থায় আপনার মতো যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তির চাহিদা রয়েছে। তালিকা করুন।
* সম্ভাব্য বিভিন্ন সংস্থার সমপদমর্যাদায় বেতন ও কর্মগত সুযোগ-সুবধা কি কেমন জেনে নিন।
* আপনি কি পরিমাণ বেতন ও কত বড় সংস্থার জন্য নিজেকে যথেষ্ট প্রস্তুুত করতে পারেন ঠিক করুন।
* এভাবে নিজের সম্বন্ধে যথেষ্ট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করুন। একবার নয় বারবার নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে এই আত্মমূল্যায়ন ও আত্মসমালোচনা বিষয়ে।

সফলতার জন্য আরো প্রয়োজন
* পরামর্শের মাধ্যমে কোন কিছু না জানলে জেনে নিন।
* কখনই না জেনে জানার ভান করবেন না। অকারণ ভনিতা সাফল্য অর্জনে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
* আস্থা নিয়ে কাজ করুন। কাজে আস্থা থাকলে সফলতা আসবে।
* কাজে ধৈর্য হারাবেন না। ধৈর্য হারালে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
* সাফল্য হঠাৎ করে আসে না। যদি কখনো আসে, তবে তা স্থায়ী হয়না।
* কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করুন ধৈর্য সহকারে।
* ভয়কে জয় করুন। শ্রম সাধনার মাধ্যমে আপ্রাণ চেষ্টা করুন।
* কাজের মাঝে আনন্দ খুঁজে পেতে চেষ্টা করুন।
* নিজের কাজের পর্যালোচনা করুন। কাজটি কেমন হলো, কতোটা হলো সহকর্মীদের পরামর্শ নিন।
সূত্র : এস এম মুকুল-এর সফল হওয়ার সহজ উপায় গ্রন্থ থেকে।