ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

[ জাতীয় ]

সাহাবুদ্দিনের গ্রেপ্তারের দাবি ও সেফ এক্সিট বিতর্ক: সংবিধান ও আইনের সুরক্ষা কী বলে

বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭:২৭, ২৫ জুলাই ২০২৬
সাহাবুদ্দিনের গ্রেপ্তারের দাবি ও সেফ এক্সিট বিতর্ক: সংবিধান ও আইনের সুরক্ষা কী বলে
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ফাইল ছবি

সদ্য পদত্যাগ করা সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিকে কেন্দ্র করে নতুন আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) তিনি পদত্যাগের পরপরই জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং ইনকিলাব মঞ্চসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও সংগঠন তার বিরুদ্ধে গণহত্যা ও স্বৈরাচারের সহযোগী হওয়ার অভিযোগ তুলে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানায়। তবে এসব দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে সাবেক রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে রাষ্ট্রপতির জন্য নির্দিষ্ট আইনি সুরক্ষার বিধান রয়েছে।

রাজধানীর বাংলামোটরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সদস্য সচিব আকতার হোসেন বলেন, আমরা দাবি জানাচ্ছি, সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক। তিনি অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেও এর মাধ্যমে তিনি নিজের জন্য একটি ‘সেফ এক্সিট’ বা নিরাপদ প্রস্থানের পথ তৈরি করার চেষ্টা করেছেন। 

আকতার হোসেন বলেন, অসুস্থতার কথা বলা হলেও যেভাবে তিনি পদত্যাগপত্র লিখেছেন, তাতে মনে হয় নিজের জন্য একটি নিরাপদ পথ তৈরি করতে চেয়েছেন। কিন্তু তাকে কোনো সেফ এক্সিট দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি যে অপরাধই করে থাকুন না কেন, তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

অন্যদিকে, ঢাকায় এক বিক্ষোভ মিছিল শেষে ইনকিলাব মঞ্চের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র আবদুল্লাহ জাবের অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার সরকারের আমলে সংঘটিত গুম ও হত্যাকাণ্ডকে সাহাবুদ্দিন বৈধতা দিয়েছেন। তিনি তাকে ‌‘গণহত্যার সহযোগী’ উল্লেখ করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান এবং তা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রপতির জন্য সংবিধানে দুই ধরনের আইনি সুরক্ষা রয়েছে।সংবিধানের ৫১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনকালে দাপ্তরিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপের জন্য আদালতে জবাবদিহি করতে বাধ্য নন। এই সুরক্ষা পদত্যাগের পরও বহাল থাকে।

অন্যদিকে, ৫১(২) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকাকালে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের বা গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে যে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে, পদত্যাগের পর সেই সুরক্ষা আর কার্যকর থাকে না।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাবিবুর রহমান বলেন, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনকালে দাপ্তরিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে নেওয়া কোনো পদক্ষেপের জন্য পরবর্তী সময়েও তার বিরুদ্ধে মামলা বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। ফলে ওই দায় থেকে তিনি পদত্যাগের পরও সুরক্ষাপ্রাপ্ত।

তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এই সাংবিধানিক সুরক্ষা সীমাহীন নয়। রাষ্ট্রপতির দাপ্তরিক দায়িত্বের বাইরে সংঘটিত কোনো ফৌজদারি অপরাধ বা সুনির্দিষ্ট আমলযোগ্য অপরাধের অভিযোগ থাকলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। তবে নির্দিষ্ট অভিযোগ বা আইনি ভিত্তি ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার বা মামলা করা যায় না।

এদিকে, সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে কোনো মামলা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর সিরডাপে মানবাধিকারবিষয়ক এক পরামর্শ সভায় তিনি বলেন, কোনো মামলা থাকলে সেটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না, তাও যাচাই করা হবে।

উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংবিধান অনুযায়ী তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগেই তিনি স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কে কে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!