ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপিত ঈদ, আনন্দে ভাসছে দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮:১৭, ২১ মার্চ ২০২৬
শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপিত ঈদ, আনন্দে ভাসছে দেশ
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার পর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দঘন পরিবেশে সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। রাজধানী থেকে গ্রাম- সবখানেই খুশির আমেজ, কোলাকুলি আর উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে জনজীবন। এবার ঈদ উদযাপনকে ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকায় বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি, ফলে মানুষ নির্বিঘ্নেই ঈদের আনন্দ উপভোগ করছেন।

ঈদের দিন সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নির্ধারিত সময়ে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহসহ গুরুত্বপূর্ণ মসজিদগুলোতে ছিল মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড়। নামাজ শেষে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

ঈদ উপলক্ষে মানুষের ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। নতুন পোশাক, ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ- সব মিলিয়ে উৎসবের আবহাওয়া বিরাজ করছে সর্বত্র। শিশু ও তরুণদের মধ্যে নতুন পোশাক নিয়ে ছিল বাড়তি উচ্ছ্বাস। একই সঙ্গে শহর ছেড়ে অনেকেই ছুটে গেছেন গ্রামের বাড়িতে, প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে।

Advertisement

জাতীয় ঈদগায়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি দেশ গঠনে দল-মত নির্বিশেষে সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি উন্নত রাষ্ট্র গড়তে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

ঈদকে ঘিরে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে শুরু হওয়া এ শোভাযাত্রা নগরজীবনে উৎসবের নতুন মাত্রা যোগ করে। ঢোল-বাজনা, ঐতিহ্যবাহী আয়োজন ও অংশগ্রহণকারীদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

অন্যদিকে বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করেই হাজারো মুসল্লি ঈদের জামাতে অংশ নেন। ভোর থেকেই সেখানে মানুষের সমাগম ঘটে এবং নির্ধারিত সময়ে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

ঈদকে কেন্দ্র করে সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীদের ব্যাপক চাপ দেখা গেলেও প্রশাসনের তৎপরতায় যাতায়াত ছিল তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, এবারের ঈদে চাঁদাবাজি কমেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বড় ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

এদিকে সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝেও ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। তারা ঈদসামগ্রী বিতরণসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সব মিলিয়ে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং উৎসবের আনন্দে ভরপুর এক আবহে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআরকে
ট্যাগ: ঈদুল ফিতর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!