জানা গেছে, ঈদের দিনটি মূলত বছরের অন্য দিনের মতো নয়। এদিন সবাই আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন। কারাগারেও কোনো ভেদাভেদ থাকে না। আনন্দের ছোঁয়া লাগে কারাগারের উঁচু দেওয়ালের ভেতরেও। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জামাতে নামাজ আদায় করেন সব শ্রেণির বন্দিরা। এরপর খান বিশেষ খাবার।
ঈদের দিন বন্দিদের চোখে-মুখে ভেসে ওঠে উচ্ছ্বাস। বেশি মনে পড়ে পরিবারের কথা, প্রিয়জনের স্মৃতি কিংবা ঘরের রান্নার স্বাদ। এসব বিষয় ভেবে ঈদের দিন কারাগারে আয়োজন করা হয় বিশেষ খাবার। এবারও পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে সাধারণ বন্দি ও ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দিদের মধ্যকার দূরত্ব ঘুঁচে যাবে। একসঙ্গে কাটবে ঈদের প্রতিটি মুহূর্ত।
.png)
থাকছে যেসব খাবার:
ঈদের দিন সকালের খাবারে থাকছে পায়েস, সেমাই ও মুড়ি। দুপুরে থাকছে পোলাও, মুরগির রোস্ট, গরু ও খাসির মাংস, সালাদ, মিষ্টি ও পান। আর রাতে দেওয়া হবে সাদা ভাত, আলুর দম ও রুই মাছ ভাজা।
অন্য সময় বন্দিরা যা খান
সারা বছর সাধারণ বন্দিদের সকালে দেওয়া হয় হালুয়া, রুটি ও ডিম। দুপুরের খাবারের তালিকায় থাকে ভাত, ডাল, সবজি। রাতের খাবারে দেওয়া হয় ভাত, ডাল, মাছ বা গরুর মাংস। আর ডিভিশন পাওয়া বন্দিদের খাবার তাদের পছন্দ অনুযায়ী আলাদা রান্নার ব্যবস্থা করা হয়।
কারা কর্তৃপক্ষ যা বলছেন
কারা অধিদফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন ও গণমাধ্যম) জান্নাত-উল ফরহাদ বলেন, ঈদের দিন কারাগারে বন্দিদের জন্য ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণ বন্দি ও ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দির খাবার একই। উন্নত মানের খাবার পরিবেশনের পাশাপাশি বন্দিদের জন্য স্বজনদের আনা খাবারও খেতে দেওয়া হয়, তবে একবার।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, এবার ঈদের দিন বন্দিদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ঈদের পরদিন থেকে তিনদিন বন্দিদের সঙ্গে তাদের স্বজনদের মোবাইলে কথা বলতে দেওয়া হবে। এ সময় স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতও করতে পারবেন তারা।
তিনি বলেন, ঈদের তিনদিনে ফোনে একবার কথা বলতে পারবেন বন্দিরা, যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। এছাড়া সরাসরি সাক্ষাৎ করতে পারবেন একজন আত্মীয়ের সঙ্গে। দেশের ৭৫টি কারাগারের মধ্যে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কিছু কারাগার ঈদের দিন অথবা পরদিন যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।
উল্লেখ্য, সারাদেশে কারাগারের সংখ্যা ৭৫টি। এর মধ্যে কেরাণীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুরে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন ৯ হাজার ৩২২ জন।