ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]
১১ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনসহ নানা অভিযোগ

বাধ্যতামূলক অবসরের পরও নতুন পদে বহাল দুদকের মাহবুবুল হাসান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫:২২, ৯ অক্টোবর ২০২৪
বাধ্যতামূলক অবসরের পরও নতুন পদে বহাল দুদকের মাহবুবুল হাসান
অভিযুক্ত দুদকের সাবেক প্রধান সহকারী মাহবুবুল হাসান আফ্রাদ- ফাইল ফটো

স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া রসিদ বানিয়ে ১০ লাখ ১০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চলতি বছরের জুলাই মাসে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান সহকারী মুহাম্মদ মাহবুবুল হাসান আফ্রাদকে। তবে অবসরের ২ মাসের মাথায়ই ১১ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে নতুন পদে নিয়োগ পেয়ে চাকরি করছেন তিনি।

সম্প্রতি এ অভিযোগ করেছেন ডালিয়া পপি নামে এক নারী। এ ঘটনায় দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ বরাবর লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছেন তিনি।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে নরসিংদীর বেলাবো উপজেলার ভাবলা উচ্চবিদ্যালয়ের ফান্ডে কোনো টাকা জমা না দিয়ে স্কুলের অফিস সহকারী নূরুল আলম আফ্রাদের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া রসিদ বানান পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি ও দুদকের প্রধান সহকারী মুহাম্মদ মাহবুবুল হাসান আফ্রাদ। সেই রসিদ শিক্ষা বোর্ডে জমা দিয়ে নিজেকে ঐ স্কুলের আজীবন দাতা সদস্য ও সভাপতি হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করে নেন।

Advertisement

১০ লাখ ১০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চলতি বছরের জুলাই মাসে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান সহকারী মুহাম্মদ মাহবুবুল হাসান আফ্রাদ। তবে অবসরের ২ মাসের মাথায়ই ১১ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে নতুন পদে নিয়োগ পেয়েছেন তিনি।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যালয়ের আজীবন দাতা সদস্য হওয়ার জন্য মাহবুবুল হাসান আফ্রাদ বিদ্যালয়ের ফান্ডে টাকা না দিয়েই টাকা জমার রসিদ শিক্ষা বোর্ডে দেখান। এ ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের সাবেক অফিস সহকারী নুরুল আলম আফ্রাদের স্বাক্ষর জাল করেন তিনি।

ভাবলা উচ্চবিদ্যালয়ের বেতন আদায়ের রসিদে ২০০৬ সালের ২৪ নভেম্বর দেড় লাখ টাকা, একই বছরের ৫ ডিসেম্বর ৮০ হাজার, ১৫ ডিসেম্বর ৭০ হাজার, ২০০৭ সালের ১০ অক্টোবর ২ লাখ ১০ হাজার, ২০০৯ সালের ১০ ডিসেম্বর ৫ লাখ টাকাসহ মোট ৫টি ভুয়া রসিদ শিক্ষা বোর্ডে জমা দেন মাহবুবুল হাসান।

২০২১ সালের ১১ ডিসেম্বর ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে বিদ্যালয়ের নামে আসা একটি চিঠিতে জানানো হয়, মাহবুবুল হাসান আফ্রাদ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে বিদ্যালয়ের ফান্ডে ১০ লাখ ১০ হাজার টাকা জমা করেছেন। এতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হলে যাবতীয় খাতাপত্র ও বিল ভাউচার যাচাই করেন। পরে বোর্ডে গিয়ে জানা যায়, মাহবুবুল হাসান অনেক আগেই উল্লেখিত পরিমাণ টাকা ফান্ডে জমার রসিদ দিয়েছেন।

নরসিংদীর বেলাবো উপজেলার ভাবলা উচ্চবিদ্যালয়ের ফান্ডে কোনো টাকা জমা না দিয়ে ভুয়া রসিদ বানান পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি ও দুদকের প্রধান সহকারী মুহাম্মদ মাহবুবুল হাসান।

ভাবলা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. গোলাপ আফ্রাদ জানান, শিক্ষা বোর্ডে টাকা জমা দেওয়ার রসিদ সম্পূর্ণ ভুয়া। রসিদে আদায়কারীর স্বাক্ষরও জাল। রসিদে উল্লেখিত ১০ লাখ ১০ হাজার টাকা বিদ্যালয় ফান্ডে নেই।

সেই সময় অভিযুক্ত মাহবুবুল হাসান আফ্রাদ তার বিরুদ্ধে যাবতীয় অভিযোগ মিথ্যা ও ভুয়া বলে দাবি করেন। পরে ঐ ঘটনায় ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর দুদকে অভিযোগ করেন অফিস সহকারী নূরুল আলম আফ্রাদ। এরপর বারবার কৌশলে তার কাছ থেকে আপসনামায় স্বাক্ষর নেয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন মাহবুবুল হাসান আফ্রাদ। এমনকি নুরুল আলমের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী ডালিয়া পপির কাছ থেকেও আপসনামায় স্বাক্ষর নেয়ার জন্য অমানবিক চাপ প্রয়োগ করেন তিনি। পরে নূরুল আলম আফ্রাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক দফা তদন্ত চালায় দুদক। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চলতি বছরের জুলাই মাসে প্রধান সহকারী মাহবুবুল হাসান আফ্রাদকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। সেই সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পাশাপাশি ১৫ জুলাই দুদকের পক্ষ থেকে অফিস আদেশও জারি করা হয়।

২০০৬ সালের ২৪ নভেম্বর দেড় লাখ টাকা, একই বছরের ৫ ডিসেম্বর ৮০ হাজার, ১৫ ডিসেম্বর ৭০ হাজার, ২০০৭ সালের ১০ অক্টোবর ২ লাখ ১০ হাজার, ২০০৯ সালের ১০ ডিসেম্বর ৫ লাখ টাকাসহ মোট ৫টি ভুয়া রসিদ শিক্ষা বোর্ডে জমা দেন মাহবুবুল হাসান।

কিন্তু বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর দুই মাস পার হতে না হতেই গত ২৫ সেপ্টেম্বর আরেকটি অফিস আদেশ জারি করে মাহবুবুল হাসান আফ্রাদকে অন্য একটি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। জানা গেছে, চাকরি ফিরে পাওয়ার জন্য ১১ লাখ টাকা ঘুষও দিয়েছেন তিনি।

বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো মাহবুবুল হাসান আফ্রাদকে নতুন পদে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ও এর নেপথ্য কারণ উদঘাটন করতে দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভাবলা হাইস্কুলের অফিস সহকারী নুরুল আলমের স্ত্রী ডালিয়া পপি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা (উপপরিচালক-এনফোর্সমেন্ট) তানজির হাসিব সরকার বলেন, আমি শুধু তদন্তের অংশটুকু জানি। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। সেই প্রতিবেদনের আলোকে প্রশাসন মাহবুবুল হাসানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন। পরবর্তীতে তাকে নতুন করে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। এটা সম্পূর্ণ প্রশাসন বলতে পারবে।

ভাবলা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. গোলাপ আফ্রাদ জানান, শিক্ষা বোর্ডে টাকা জমা দেওয়ার রসিদ সম্পূর্ণ ভুয়া। রসিদে আদায়কারীর স্বাক্ষরও জাল। রসিদে উল্লেখিত ১০ লাখ ১০ হাজার টাকা বিদ্যালয় ফান্ডে নেই।

এদিকে ডেইলি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুদকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ, মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন এবং অভিযুক্ত মাহবুবুল হাসান আফ্রাদের সঙ্গে মুঠোফোনে কল করে ও খুদে বার্তা পাঠিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!