মাকে পেটানো ইমাম ছাড়া পেলেন আহত মায়ের সুপারিশে
এই সম্পর্কের নাম মা। সন্তান মাকে নির্যাতন করলেও মা কিন্তু সন্তানের অমঙ্গল কখনো কামনা করেন না। সন্তান বিপদে পড়লে সবার আগে জীবন বাজি রেখে তাকে মুক্ত করার চেষ্টা করেন মা।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের জামপুর ইউপির জামপুর গ্রামের এমন একটি ঘটনা আবার যেন সবাইকে সেই কথাই মনে করিয়ে দিল।
বৃদ্ধা মাকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় ইমাম হোসাইন নামে এক মসজিদের ইমামকে আটক করে পুলিশ।
.png)
রোববার সকালে জেলার আড়াইহাজার উপজেলার ছোট ফাউসা গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। তবে আহত ওই মায়ের সুপারিশেই সোনারগাঁয়ের ইউএনও অঞ্জন কুমার সরকারের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিশ্চিত দণ্ড থেকে রেহাই পান পাষণ্ড ওই ইমাম।
ইমাম হোসাইন সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর এলাকার তোতা মিয়ার ছেলে। সে আড়াইহাজার উপজেলার ফাউসা কুটি বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম।
সোনারগাঁয়ের তালতলা তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক আহসান উল্লাহ জানান, বৃদ্ধা ফাতেমা বেগম শনিবার রাতে নিজের ছেলে ইমাম হোসাইনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ইমাম হোসাইনকে আটক করা হয়।
অভিযোগের বরাত দিয়ে আহসান উল্লাহ আরো জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আদালত থেকে একটি সমন শনিবার দুপুরে ইমাম হোসাইনের কাছে পৌঁছায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বৃদ্ধা ফাতেমা বেগমকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে ওই ইমাম। পরে স্থানীয়রা ফাতেমা বেগমকে উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর রাতে নিজে বাদী হয়ে ছেলে ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ফাতেমা বেগম।
সোনারগাঁয়ের ইউএনও অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, অভিযুক্ত ইমামকে আটকের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। বিচারিক প্রক্রিয়ার সময় আহত মা তার ছেলে আর এমন করবে না বলে সুপারিশ করে। পরে তার মায়ের কথা বিবেচনা করে ভবিষ্যতে এমন করবে না মুচলেকায় সে ছাড়া পায়।