অভ্যাসের দিনপঞ্জিতে জীবনটাকে সাজিয়ে তুলুন
কাজ করুন দিনপঞ্জিতে :
হাতের নাগালে রাখুন একটি ডায়েরি। আজকের দিনে যে যে কাজগুলো আপনাকে করতে হবে মনে হবার সাথে সাথে লিখে ফেলুন। মাঝে মাঝে চোখ বুলিয়ে নিন ডায়েরিতে। নতুন কোনো কাজের কথা মনে হবার সাথে সাথে লিখে ফেলুন। নো টেনশন। কাজ মনে করার জন্য ব্রেইনে আর বাড়তি চাপ পড়বেনা।
- ভালোবাসুন নিজেকে :
জীবনের চেয়ে সুন্দর, শ্রেষ্ঠ আর কিছু নেই। বিশ্বাস হয়না- আয়নার সামনে দাঁড়ান। গভীরভাবে নিজেকে পর্যবেক্ষণ করুন। দেখুন বিধাতা কত সুন্দর একটি জীবন দিয়েছেন আপনাকে। দুঃখ, কষ্ট, বেদনা সবকিছুর উর্ধ্বে দেখুন এই আপনি এখনো বেঁচে আছেন। বেঁচে আছেন বলে, আপনি কিছু করতে পারছেন, ভাবতে পারছেন।
বেঁচে না থাকলে এর কোনোটাই সম্ভব না। ব্যর্থতায়, হতাশায় কিংবা অপরের জন্য নিজের জীবন বিসর্জন দেয়ার মাঝে কোনো কৃতিত্ব নেই। বরং দুঃখ জয় করার মাঝে, হতাশা কাটিয়ে স্বপ্ন দেখার মাঝে এবং নতুনভাবে বেঁচে থাকায় প্রত্যয় গ্রহণের মাঝে আছে জীবনের চিরন্তন সত্য উপলব্দি। নিজের জীবনের লক্ষ্যের প্রতি সম্মান জানান। ভালবাসুন নিজেকে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলে থাকেন জীবনের সবচে ফালতু কসম হচ্ছে অন্যের জন্য জীবন দেয়ার মিথ্যা কসম খাওয়া। নিজের চেয়ে কেউই অন্যকে ভালোবাসতে পারে না। ভালোবাসা সম্ভব নয়। এ সত্যকে স্বীকার করে ক্ষণস্থায়ী এ জীবনে যতটুকু সম্ভব, নিজেকে পরিপূর্ণভঅবে গড়ে তোলায় মনোযোগী হোন। অন্যকে ভালোবেসে জীবন দিতে গেলে (যদিও বাস্তবে ঘটে খুব কম, বাগাড়ম্বর হয় বেশি) সৃষ্টির মৌলিক উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।
- তৈরি করুন ফুড ডায়েরি :
একটু কষ্ট করে আপনাকে খোঁজ নিতে হবে কোন কোন খাবারের গুরুত্ব কি কারণে এবং কতটুকু। কোনো খাবার সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য পেলে তা নোট করে রাখুন, লিখে রাখুন এ খাদ্যের উপকারীতা শরীরের কোন কোন অংশের জন্য। দেখবেন খাবার নির্বাচনের ক্ষেত্রে আপনার দক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে শতগুণ। যার সুফল পাবে আপনার সন্তান এবং আপনার পরিবার।

- হাসিতেই মুক্তি :
প্রতিবার অট্টহাসি আপনার রক্তে অক্সিজেনের প্রবাহ এবং কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়। ঠিক এ কারণেই মজাদার হাসি উদ্রেককারী কোনো ঘটনা উপভোগের পর আপনার শরীর থাকে চনমনে এবং কাজে আপনি পান অন্য সময়ের চেয়ে বাড়তি মনোবল, আপনার মস্তিষ্ক কাজ করে আগের চেয়ে দ্বিগুণ শক্তিতে। লক্ষ্য করে দেখবেন যারা গোমড়া মুখে দিন গুজরান করতে পছন্দ করেন লক্ষ্য করবেন তাদের শরীর অন্যদের অপেক্ষা বেশি দুর্বল যারা বেশি বেশি হাসেন।
- ভালো করে চিবিয়ে খান :
অভ্যাসবশত বা ব্যস্ততার যে কারণেই হোক তাড়াহুড়ো করে খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যকর নয়। ধীরে ধীরে ভালোমত চিবিয়ে তবেই পাকস্থলিতে পাঠান। আপনারই উপকার হবে হবে।
- ১০টি গভীর শ্বাস নিন :
প্রতিটি নিঃশ্বাসের সাথে সাথে শরীরে অক্সিজেন প্রবেশ করছে এবং শরীরের প্রতিটি কোষ থেকে এক জটিল প্রক্রিয়ায় দূষিত পদার্থগুলি বের হয়ে যাচ্ছে। নিঃশ্বাস যত গভীর হয় তত বেশি অক্সিজেন কোষগুলি পেয়ে থাকে এবং তত বেশি দূষিত কণা পরিত্যক্ত হয়। প্রতিদিন নিয়ম করে কমপক্ষে ১০টি গভীর শ্বাস নিন এবং ধীরে ধীরে ছাড়ুন। আপনার মস্তিষ্ক বেশি অক্সিজেন যাবে যা আপনার চিন্তা করার শক্তিকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে।
- ব্যায়ামটা সেরে নিন :
পিঠের ব্যথা একটি অতি সাধারণ সমস্যা। কিন্তু একটি অতি সাধারণ ব্যায়াম করে এ ব্যথা দূর করা যেতে পারে। পিঠে যদি কোনো সমস্যা থাকে তা দূর করতে পারে। হাঁটু ভাঁজ করা অবস্থায় চিৎ হয়ে শুয়ে পড়–ন। পায়ের পাতা মাটিতে রেখে সামনের দিকে নুয়ে আবার শুয়ে পড়ুন। প্রতিদিন ৫ থেকে ১৫ মিনিট এ ব্যায়ামটি করুন। আপনার মেরুদন্ড প্রসারিত তো হবেই যা আপনাকে লম্বা হতেও সাহায্য করবে, সাহায়ক হবে তলপেটে মেদের মাত্রা কমাতেও। উপরন্তু মেরুদন্ড এবং পিঠের কোনো ব্যামো থাকলে তা দূর হবে চিরতরে।
- কাঁচা সবজির সালাদ :
প্রতিদিন কিছু কাঁচা সবজি শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী। রান্না করা সবজি কিছুটা ভিটামিন হারায় কিন্তু কাঁচা সবজি তা হারায় না। তাই বলে সব সবজি কাঁকা খাওয়ার মতোও নয়। শসাসহ কিছু কিছু সবজি আছে যেগুলো কাঁচা খাওয়া যায়। সালাদ হিসেবে এগুলো আমরা নিয়মিত খাবারের সাথে খেয়ে থাকি।
যেসব সবজি কাঁচা খাওয়া যায় যেমন- শসা, গাজর, মিষ্টি আলু, মুলা, টমেটো ইত্যাদি। এসব কাঁচা সবজি দ্বিগুণভাবে বৃদ্ধি করে হজম শক্তি।

- মাথার কাজে আপেল ভালো :
আপেল এমন একটি ফল যার সারবস্তুটুকুও আপনার শরীরের কাজে লাগে। যারা মাথার (বুদ্ধির) কাজ করেন তাদের জন্য আপেল অনেক দরকারি ফল। তাই বলঅ হয়ে থাকে, দিনে একটি ফল কিনে খেতে ইচ্ছে করে, তো আপেল খান। রোগবালাই প্রতিরোধে এবং ত্বকের লাবণ্য বৃদ্ধিতেও আপেলের জুড়ি নেই।
- হাত পা ম্যাসাজ প্রয়োজন :
ভালো ঘুম ছাড়া ভালো স্বাস্থ্য সম্ভব নয়। কিন্তু রক্তের সঞ্চালন ভালো না হলে ভালো ঘুম হবেনা। ঘুমানোর আগে আপনার শরীরের তাপমাত্রা নিচে নামা প্রয়োজন। শরীর এ তাপ পরিত্যাগ করে আপনার মুখমন্ডল, হাত এবং পায়ের তালুর মাধ্যমে। সুতরাং এ জায়গাগুলিতে ভালো রক্তসঞ্চালন প্রয়োজন। ঘুমাতে যাবার আগে দুই হাতের তালু এবং পায়ের পাতা ১০ মিনিট ম্যাসেজ করুন ।
- ডায়েট জাম্পিং ভালো নয় :
ডায়েট কন্ট্রোল করতে গিয়ে অনেকে অতিসচেতনতাবশত একবেলার খাবার বাদ দিয়ে থাকেন যাকে বলঅ হয় মিল জাম্পিং। স্বাস্থ্যসুরক্ষায় কোনো কিছুই না করলে সমস্যা নেই, তবুও তিনবেলা নিয়ম মাফিক খাওয়া বন্ধ করা চলবেনা। অল্প হোক বেশি হোক তিনবেলার এ নিয়মিত খাবার আপনার রক্তের সুগার লেভেলকে সংহত রাখবে। এর অন্যথা হলে শরীর দুর্বল থেকে দুর্বলতর হতে থাকবে।