ঢাকা,  বুধবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

করোনায় মানসিক শান্তি পেতে তরুণ-তরুণীরা উড়াচ্ছেন ঘুড়ি

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:৪১, ৪ জুন ২০২০
করোনায় মানসিক শান্তি পেতে তরুণ-তরুণীরা উড়াচ্ছেন ঘুড়ি
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

প্রাণঘাতী করোনা আতঙ্কে স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ব। করোনার ভয়াবহতা বদলে দিয়েছে পুরো পৃথিবীর দৃশ্যপট। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটে চলা মানুষগুলো এখন গৃহবন্দী। 

এই অবস্থায় নিরাপদে থাকতে স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সেই সঙ্গে বন্ধ সব আউটডোর খেলাধুলা। আর এই লম্বা ছুটিতে বাঙালির ঐতিহ্য রুঙিন ঘুড়ি নিয়ে মেতে আছেন টাঙ্গাইলের তরুণ প্রজন্ম। 

শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের অনেকেই একসঙ্গে ফাঁকা জায়গায় ও বাড়ির ছাদে ঘুড়ি উড়াতে দেখা যায়। অপরদিকে ঘুড়ি তৈরি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কারিগররা। 

Advertisement

সরেজমিনে টাঙ্গাইল শহরসহ বিভিন্ন গ্রামে দেখা যায়, শহরে বাসার ছাদে ও গ্রাম অঞ্চলে ফসলি জমির আইল এবং রাস্তার পাড়ে তরুণ-তরুণীরা ঘুড়ি উড়াচ্ছেন। অনেকেই আবার ঘুড়ির সুতোয় কাটাকাটি খেলে কিংবা দূর আকাশে ঘুড়ি পাঠিয়ে করোনাকালীন অবসাদ দূর করার বিনোদনে মেতে উঠেছেন।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আদালত পাড়া এলাকার বিভাস কৃষ্ণ চৌধুরী বলেন, বাড়িতে দীর্ঘদিন অবস্থান করার ফলে অনেকের মধ্যে অবসাদ ভর করছে। অনেকেই ঘুড়ি উড়িয়ে সেই অবসাদ ঝেড়ে ফেলতে চাইছেন। এতে মুক্ত আকাশে ঘুড়ি উড়িয়ে বদ্ধ হয়ে থাকা এক মানসিক যন্ত্রণা থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি মিলছে।

কলেজ ছাত্র হাবিবুর রহমান আকাশ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কলেজ বন্ধ। আগে নিয়মিত কলেজ যেতাম, সময় কাটতো। এখন আর সময় কাটতে চায় না। ছাত্ররা বিকেলে মাঠে খেলাধুলা করতো এখন তো আর সেটা সম্ভব নয়। সব সময় রুমে থাকতে থাকতে আর ভালো লাগে না। এদিকে মা বাবা বাড়ি থেকে বের হতে দেন না। অন্যদিকে একঘেয়েমি কাটাতে বিকেলে এখন সবাই মিলে ঘুড়ি উড়ানো হয়। এতে মনটা চাঙা হয়ে উঠে।

প্রিয়নত ভৌমিক বলেন, এতদিন গৃহবন্দী থেকে হাঁপিয়ে উঠেছে। তাদের সঙ্গে বাইরে ঘুরতে যাওয়ার উপায় নেই। শুনলাম এলাকায় নাকি ঘুড়ি উড়ানো হয়ে থাকে। উড়ানোর দৃশ্য দেখতে চলে এসেছি। এখন খুব ভালো লাগছে। 

আদালত পাড়া এলাকার ঘুড়ি তৈরির কারিগর শুভ বসাক বলেন, আমার স্বর্ণের দোকান রয়েছে। করোনাভাইরাসে কারণে দোকান বন্ধ। তাই বিভিন্ন প্রজাতির ঘুড়ি বানিয়ে বিক্রি করি। স্মৃতিসৌধ, শহিদ মিনার, তাজমহল ও বিমানসহ নানা রকমের ঘুড়ি তৈরি করে থাকি। একজন সহকারী নিয়ে প্রতিদিন ১৫-২০টা ঘুড়ি বানানো যায়। ছোট, মাঝারি ও ৩-৪ ফুট আকারের ঘুড়িও তৈরি করি। প্রতিটি ঘুরি ১৫০-২০০ টাকায় বিক্রি করি। এতে আমার বেশ লাভ হয়। 

বিশ্বাস বেতকা এলাকার অপর কারিগর সবুজ বলেন, আমার শাড়ির ব্যবসা আছে। করোনাভাইরাসে ঘরেই থাকতে হয়। তাই শখের বসে ঘুড়ি তৈরি করে বিক্রি করছি। প্রতিটি ঘুড়ি ৩০-৭০ টাকা দাম ধরে বিক্রি করি। 
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!