ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ সাক্ষাৎকার ]

সিনেমাটির গল্পের কারণে যুক্ত হয়েছি: মৌসুমী হামিদ

এম. রবিউল
প্রকাশিত: ১৮:০৩, ৪ ডিসেম্বর ২০২৪
সিনেমাটির গল্পের কারণে যুক্ত হয়েছি: মৌসুমী হামিদ
মৌসুমী হামিদ। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

২০১০ সালে সুন্দরী প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে বিনোদন দুনিয়ায় যাত্রা শুরু মৌসুমী হামিদের। অভিনয় করেছেন নাটক, সিনেমা ও ওয়েব সিরিজে। সম্প্রতি বানভাসিদের গল্প নিয়ে সোহেল রানা বয়াতির পরিচালনায় রওনক হাসানের বিপরীতে ‘নয়া মানুষ’ সিনেমায় শুটিং শেষ করেছেন। সিনেমাটি দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ৬ ডিসেম্বর। এ সিনেমা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন ডেইলি বাংলাদেশের সঙ্গে। আলাপচারিতায় ছিলেন এম. রবিউল।

নয়া মানুষ নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কেমন?
মৌসুমী হামিদ:
দেশে এ মুহূর্তে খুব ভালো পরিস্থিতি বিরাজ করছে না। এটা সত্যি যে এ সময়ে ‘নয়া মানুষ’ মুক্তি পাওয়া একটা চ্যালেঞ্জ। আমরা সিনেমাটি নিয়ে আশাবাদী। এর গল্প, মেকিং, স্ক্রিন, ভিজুয়াল সবই একটু আলাদা। ‘দরদ’ বা ‘তুফান’-এর মতো ওভার বোল্ড বা কমার্শিয়াল সিনেমা এটা নয়। এ সিনেমা গ্রামের মানুষ, চর ও মাটির মানুষের গল্প নিয়ে নির্মিত। গল্প যদি ভালো হয় স্ক্রিন, ভিজুয়াল যেমনই হোক না কেন মানুষ সেটা পছন্দ করে। অনেকেই মনে করেন, বড় নায়ক-নায়িকা হলেই সিনেমা ব্যবসা সফল হয়, এমনটা নাও হতে পারে। গল্প ভালো হলে মানুষ সিনেমা দেখতে হলে যাবে এটাই স্বাভাবিক।

মৌসুমী হামিদ

Advertisement

নয়া মানুষে কী আছে, যা দর্শক আগে দেখেনি?
মৌসুমী হামিদ:
আমরা যেসব সিনেমা বানাই, সবই জীবন থেকে গল্প নিয়ে বানানোর চেষ্টা করি। বেশির ভাগ সিনেমাই জীবনের গল্প থেকে নির্মাণ করা হয়। একেকজন একেকভাবে সেটা তুলে ধরেন। একই গল্প ভিন্নভাবে বলার কারণে সেটা নতুন লাগে। আমরা একটা সাধারণ গল্প নতুন করে বলার চেষ্টা করেছি। আমাদের শিল্পীরা বেশির ভাগ নতুন। রওনক ভাইকেও দর্শক নয়া মানুষে নতুন করে দেখতে পাবে। আমাকেও দর্শক নতুন করে দেখবে এ সিনেমায়। কারণ এ ধরনের চরিত্রে আমি আগে কখনো কাজ করিনি, এবারই প্রথম। আশা করছি, দর্শক নতুন কিছু পাবে।

নতুন নির্মাতার সঙ্গে এ ধরনের চরিত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
মৌসুমী হামিদ:
সোহেল রানা বয়াতি আগে বেশ কিছু শর্ট ফিল্ম বানিয়েছেন। তার এটা প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা, কিন্তু সে পরিচালক হিসেবে নতুন নন। সিনেমা নিয়ে তার পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে। এমনকি তার হাতেখড়িও হয়েছে ভালো পরিচালকের হাতে। সোহেল পরিচালক হিসেবে জেদি। এ সিনেমা নিয়ে আমরা এক সময় আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম যে এটা আর হবে না। কিন্তু সোহেল আশা ছাড়েনি। সিনেমাটির বাজেট ছিল অনেক অল্প। সোহেল ৩৭ হাজার টাকা নিয়ে শুটিংয়ে নামে। অল্প অল্প টাকা ম্যানেজ করে শুটিং করেছে। এমনো সময় গেছে, মনে হয়েছে সে আর টাকা ম্যানেজ করতে পারবে না, শেষ মুহূর্তে ঠিকই সিনেমাটি শেষ করেছে। প্রতিটা সিনেমা পরিচালকের মধ্যে এ ধরনের পেশন থাকা উচিত ‘যেকোনো ঝামেলা আসুক সিনেমা শেষ করবই’। সোহেলের মধ্যে এ স্পিরিটটা ছিল।

মৌসুমী হামিদ

ঠিক কী কী প্রতিবন্ধকতা ছিল?
মৌসুমী হামিদ:
সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা ছিল লোকেশন। আমরা যে চরে শুটিং করেছি, এটা একেবারে শুটিংবান্ধব জায়গা ছিল না। শুটিংয়ের সময় পরিবেশটা অনুকূলে থাকা খুব জরুরি। তাহলে মনোযোগ সহকারে কাজ করা যায়। লোকেশনটা খুবই প্রতিকূল ছিল। যাতায়াত ব্যবস্থাও ভালো ছিল না। ছিল প্রাকৃতিক দুর্যোগ সিত্রাংও।

নয়া মানুষ সিনেমায় এত সমস্যার পরও আপনার যুক্ত হওয়ার কারণ কী?
মৌসুমী হামিদ:
আমি আসলে সিনেমাটির গল্পের কারণে যুক্ত হয়েছি। এ সিনেমায় প্রতিটা মানুষ এত কষ্টের মধ্যেও কাজটা শেষ করে এসেছে শুধু সিনেমার গল্পের কারণে।

সিনেমাটি নিয়ে দর্শককে কী বলবেন?
মৌসুমী হামিদ:
দর্শকের উদ্দেশে আমি বলব, নয়া মানুষ পরিবার নিয়ে দেখার মতো একটি সিনেমা। এটি হলে এসে দেখুন, তাহলে আমরা এত কষ্ট করে সিনেমাটি করেছি শুধু আপনাদের জন্য। দর্শক সিনেমাটি দেখলে আমাদের কষ্ট সার্থক হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/টিএএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!