দেশে শর্করার ঘাটতি মেটাবে সম্ভাবনাময় কাসাভা
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৈশ্বিক উঞ্চতা বৃদ্ধিতে কাসাভা খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এটি পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম শর্করা উৎপাদনকারী ফসল এবং আফ্রিকা সহ ৮০ কোটি মানুষের প্রধান খাদ্য। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফসল উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকির ২০০৪ সাল থেকে বাংলাদেশে এ ফসলের মাঠ পর্যায়ে প্রথম গবেষণা কাজ শুরু করেন।
এই গবেষকের সঙ্গে কথা বলে কাসাভার চাষের আদ্যপ্রান্ত ও সম্ভাবনার কথা জেনেছেন বাকৃবি প্রতিনিধি আবুল বাশার মিরাজ।
ডেইলি বাংলাদেশ: পৃথিবীতে কাসাভা চাষের শুরুটা কীভাবে হলো?
ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকির: কাসাভা একটি আপদকালীন ফসল। এই ফসলটি প্রবর্তন হয় খ্রিষ্টপূর্ব ৪ হাজার বছর পূর্বে। দক্ষিণ আমেরিকা, ক্যারিবিয়ান অঞ্চল, মেক্সিকো, আফ্রিকা, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া বিশেষ করে থাইল্যান্ড, চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ভারত, কম্বোডিয়াসহ বাংলাদেশেও কাসাভা বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করা হয়।
ডেইলি বাংলাদেশ: বাংলাদেশে কাসাভা চাষের শুরু কীভাবে হলো?
ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকির: বাংলাদেশে কাসাভা চাষের তেমন কোনো পরিসংখ্যান নেই। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে কাসাভার চাষ হয়। বিশেষ করে উপজাতীয় অধ্যুষিত এলাকা সমূহে যেমন- ময়মনসিংহের গারো পাহাড়, মধুপুর, নেত্রকোনা, হালুয়াঘাট, সিলেট, কুমিল্লার লালমাই পাহাড়, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু অংশে উপজাতীয়রা স্থানীয়ভাবে চাষ করে আসছে। দু-একটি বেসরকারি সংস্থা প্রায় ১২-১৫ হাজার হেক্টর জমিতে চুক্তিবদ্ধ চাষিদের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে কাসাভা চাষাবাদ করে আসছে। বেসরকারি সংস্থা শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে যেমন জুস, ডেক্সট্রোজ, জ্যাম-জেলি ইত্যাদিতে ব্যবহার করে।
ডেইলি বাংলাদেশ: কাসাভার ফসলের বৈশিষ্ট্য মূলত কেমন?
ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকির: কাসাভা একটি খরাসহিষ্ণু, কম উর্বরতা সম্পন্ন মাটি যেখানে অন্য কোন ফসল ভালোভাবে জন্মায় না যেমন পাহাড়ের ঢাল, উঁচু জমি, ক্ষেতের আইল, পতিত জমি ইত্যাদি জায়গায় মোটামুটি ভালোভাবে জন্মাতে পারে। কাসাভা ফসলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো- এর অধিক ফলন, গড়ে ৩৫-৫০ টন/হেক্টর। যেখানে ধান ও অন্যান্য দানাদার ফসলের ফলন ২-১০ টন/হেক্টর। কাসাভা গাছে হাইড্রোজেন সায়ানাইড নামক এক ধরনের বিষাক্ত পদার্থ তৈরি হয়। যদিও এই বিষাক্ত পদার্থটি প্রায় ২ হাজার প্রজাতির উদ্ভিদে বিদ্যমান, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কাসাভা এবং সরগম যা প্রধান খাদ্য হিসেবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ব্যবহার হয়।
ডেইলি বাংলাদেশ: বাংলাদেশে কাসাভা গবেষণার শুরুটা কীভাবে হলো?
ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকির: বাংলাদেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড টেকনোলজি গ্রামীণ শিল্প বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামসুদ্দীন ২০০২ সালে কাসাভা আলু থেকে জ্যাম, জেলি, আচার চিপস ইত্যাদি তৈরি করেন। এরপর আমি ২০০৪ সালে মাঠপর্যায়ে প্রথম গবেষণা কাজ শুরু করি। এ ফসলের ওপর পাঁচজন ছাত্রের এম.এস. ডিগ্রি সম্পন্ন করে এবং একজন ছাত্র পিএইচডি করেন।
ডেইলি বাংলাদেশ: কাসাভার পুষ্টিগুণ/পুষ্টিমান সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন?
ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকির: কাসাভা একটি অর্থকরী এবং শর্করা সমৃদ্ধ টিউবার জাতীয় ফসল। প্রতি ১০০ গ্রাম কাসাভা আলুতে ৬২-৬৫ ভাগ জলীয় উপাদান, ৩০-৩৫ ভাগ শর্করা, ০.৮-২.৭০ ভাগ প্রোটিন, ০.৫-১.২ ভাগ চর্বি, ০.৮- ২.৫ ভাগ আঁশ, ০.৩-২.৬ ভাগ খনিজ দ্রব্যসহ বিটা-ক্যারোটিন, ভিটামিন-সি ও স্বল্প পরিমাণ আয়রন থাকে। কাসাভার পাতায় ড্রাইম্যাটার ২০-৩০ ভাগ যথেষ্ট পরিমাণ প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও আয়রন থাকে।
ডেইলি বাংলাদেশ: মানবখাদ্য হিসেবে কাসাভার ব্যবহার সম্পর্কে জানতে চাই?
ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকির: বাংলাদেশে উপজাতিরা কাসাভা আলু সিদ্ধ/পুড়ে খেয়ে থাকে। টিউবার পুড়ে মিষ্টি আলুর মতো খাওয়া যায়। কাসাভা সিদ্ধ করে, তরকারির সঙ্গে গোল আলুর মত ব্যবহার করা যায়। কাসাভার স্টার্চ/আটা গমের আটার সঙ্গে মিশিয়ে রটি, পরাটা, কেক ইত্যাদি তৈরি করা হয়। ক্যারিবিয়ান দীপপুঞ্জে ক্রিসমাস ডিশ জনপ্রিয় খাদ্য। ব্রাজিলে কাসাভা আটা পেস্ট তৈরি করে মাংসের সঙ্গে পুড়ে খাওয়া হয়। হাইতিতে কাসাভা পুড়ে এবং সুপ তৈরি করে খাওয়া হয়। ভারতের কেরালা রাজ্যে সিদ্ধ কাসাভা মাছের সঙ্গে চাটনি দিয়ে খাওয়া হয়। ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপে কাসাভা পাতা কোকোনাট মিল্কের সঙ্গে মিশিয়ে সুপ হিসেবে খাওয়া হয়। ফিলিপাইনে কাসাভা কেক/পাই বিখ্যাত হিসেবে ব্যবহার হয়। টাপিওকা, পুপু ইত্যাদি নামে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কাসাভা আটা ব্যবহার হয়ে আসছে। মনোসোডিয়াম গুটামেট (টেস্টিং সল্ট) চাইনিজ খাবারে এবং এশিয়ান খাবারে সুগন্ধির জন্য কাসাভা ব্যাপক ব্যবহৃত হয়।
ডেইলি বাংলাদেশ: সম্প্রতি আপনার কাসাভা থেকে উৎপাদিত পণ্যের প্রদর্শনীর বিষয়ে যদি কিছু বলতেন?
ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকির:: বাংলাদেশে কাসাভা খাওয়ার প্রবণতা খুব বেশি জনপ্রিয় নয়। অনেক মানুষ জানেই না, কাসাভা থেকে কি কি পণ্য/খাবার বানানো যায় কিংবা কীভাবে খেতে হয়। কাসাভাকে জনপ্রিয় করতেই এটি করা৷ আর এটিতে আমার সহধর্মিণী রাকেয়া তৌফিকা নাজনীনের সহযোগিতা করেন। তার কাসাভা খাদ্য প্রণালির উপর প্রশিক্ষণও রয়েছে, সেও নিজেও এ গবেষণার একজন সদস্য।
ডেইলি বাংলাদেশ: পশু/প্রাণী খাদ্য হিসেবে কাসাভার ব্যবহার কী কী?
ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকির: কাসাভা আলুর পিলেট এবং আটা মুরগি, গরু, মহিষ, ছাগল, মাছ, ইত্যাদির জন্য একটি বিকল্প খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। থাইল্যান্ড কাসাভা পিলেট প্রাণী খাদ্য হিসেবে ইউরোপে রপ্তানি করে। প্রক্রিয়াজাত পাতা পোল্ট্রি ও প্রাণীদের পোট্রিনজাত খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কাসাভা আলুর পিলেট মুরগী হাঁসকে অন্যান্য খাবারের সঙ্গে (১০-৩০ ভাগ পিলেট + ৭০-৯০ ভাগ প্রচলিত খাবার) ব্যবহার করা যেতে পারে। কাসাভা লিফ মিল (১০-২০ ভাগ পিলেট + ৮০-৯০ ভাগ প্রচলিত খাবার) পোল্ট্রিকে খাওয়ানো যায়। কাসাভার আটা ঘন করে পানিতে মিশিয়ে (ভাতের মাড়ের মত) গাভী/মহিষ/ছাগলকে খাওয়ানো যায়। কাসাভা পাতা ও ডগা শুকানোর পর এটি ফডার হিসেবে উৎকৃষ্ট খাদ্য। কাসাভা পশুখাদ্য হিসেবে থাইল্যান্ড, চীন, নাইজেরিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে ইহার ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। ৩-৪ মাস বয়স গাছের ৩০-৪৫ সে.মি. উপরের অংশ কেটে ১-২ দিন রোদে শুকিয়ে ব্যবহার করা যায়।
ডেইলি বাংলাদেশ: গার্মেন্টস পেপার ও ঔষধ শিল্পে ব্যবহারের বিষয়ে যদি কিছু বলতেন?
ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকির: কাসাভা বা শিমুল আলুর স্টার্চ-এ গ্লুটিনের পরিমাণ বেশি থাকায় কাপড়ের মাড় হিসেবে বেশি উপযোগী। গার্মেন্টস শিল্পে কাসাভা স্টার্চের ব্যবহার সারাবিশ্বে প্রসিদ্ধ। ঔষধ শিল্পে, গ্লুকোজ সিরাপ, ডেক্সট্রোজ, স্যালাইন ও অন্যান্য ঔষধ তৈরির কাঁচামাল হিসেবেও ব্যবহার হয়। কাসাভা স্টার্চ থেকে টেস্টিং সল্ট এবং এলকোহল উৎপন্ন হয়ে থাকে। পেপার ইন্ডাস্ট্রিতেও কাসাভা স্টার্চ ব্যবহার হয়ে আসছে।
ডেইলি বাংলাদেশ: বেকারি শিল্পে কাসাভার আটা ব্যবহার করা যায় কী?
ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকির: কাসাভার আলু দিয়ে আটা/স্টার্চ তৈরি করা যায়। কাসাভার আটা ১০-৩০ ভাগ গমের আটার সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। যা গমের উপর চাপ অনেকাংশে কমানো সম্ভব। কাসাভা স্টার্চ/আটা দিয়ে বেকারি সামগ্রী যেমন পাউরুটি, কেক, বিস্কুট, সুপ, রসগোল্লা ইত্যাদি তৈরি করা হয়।
ডেইলি বাংলাদেশ: কাসাভার অন্যান্য ব্যবহার সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন?
ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকির: পাতা প্রক্রিয়াজাত করণের পর সবজি এবং মাটিতে নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ কম্পোস্ট হিসেবে ব্যবহার হয়। বাকৃবিতে এ বিষয়ে গবেষণা চলছে। কাসাভা স্টার্চ কাগজ শিল্পে, বেকারি শিল্পে খাদ্য হিসেবে, ঔষধ শিল্পে কাঁচামাল (সিরাপ) হিসেবে, জুস, জ্যাম, জেলি, গ্লুকোজ, অ্যালকোহল, আঠা/গাম তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয়। কাসাভা খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি কনস্ট্রাকশন কাজে সাদা রং হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ডেইলি বাংলাদেশ: কাসাভার চাষ পদ্ধতির বিষয়ে যদি কিছু বলতেন?
ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকির: জলবায়ু ও মাটি এ ফসলটির জন্য শুষ্ক ট্রপিক্যাল জলবায়ু প্রয়োজন। কম বৃষ্টিপাত উচ্চ তাপমাত্রায়ও (১৬- ৩৮° সে.) এ ফসল জন্মে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৩০০ মি. উচ্চতায়ও কাসাভা ভালোভাবে জন্মে। তবে খরাপ্রবণ এলাকাতেও কাসাভা মোটামুটি ফলন দেয়।
ডেইলি বাংলাদেশ: কোন ধরনের মাটিতে কাসাভা চাষ করা হয়ে থাকে?
ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকির: পলিযুক্ত সু-নিষ্কাশিত কম উর্বর বেলে দোয়াস মাটিতে এই ফসল ভালো হয়। মাটির পিএইচ মান ৪.০-৮.৫ এর মধ্যে থাকা ভালো। বাংলাদেশের উঁচু ও পাহাড়ি অঞ্চলে যেখানে পানি জমে না এবং লবণাক্ত মুক্ত সু-নিষ্কাসিত মাটিতে কাসাভা ভালো হয়। উঁচু সমতল ভূমি যেখানে পানি জন্মে না সেসব জমিতেও কাসাভা চাষ করা সম্ভব। আমাদের দেশে চরাঞ্চলে যেখানে ৬/৭ মাস শুকনা থাকে এমন জায়গাতে কাসাভা চাষের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। স্বাস্থ্যের জন্য ঘাতক তামাক চাষের বিকল্প হিসেবে কাসাভা চাষ করে শিল্প স্থাপন করা যেতে পারে।
ডেইলি বাংলাদেশ: কাসাভা ফসলের জমি কীভাবে তৈরি করতে হয়?
ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকির: জমি গভীরভাবে আড়াআড়ি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে কাসাভা বপনের উপযোগী করা হয়। তবে পাহাড়ের ঢালে গর্ত করেও ঝুম চাষ পদ্ধতিতে কাসাভা লাগানো যায়। ময়মনসিংহের ঝিনাইগাতী ও শ্রীবর্দী-তে সমতল/টিলায় কাসাভা চাষ হয়ে আসছে।
ডেইলি বাংলাদেশ: কাসাভার বংশবিস্তার ও বপন পদ্ধতি সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন?
ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকির: এই ফসলের বংশবিস্তার বীজ ও শাখা কাটিং এর মাধ্যমে করা যায়। তবে প্রধানত ১০-১৫ সে.মি. লম্বা শাখা, ১০-১২ সে.মি. গভীরতায় খাড়া বা সমান্ডুরালভাবে লাগানো যায়। গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ১ মি. এবং লাইন থেকে লাইনের দূরত্ব ১মি.। কাসাভা আলু সারা বছরই বপন করা যায় তবে নভেম্বর ও ফেব্রুয়ারি মাস বাংলাদেশের আবহাওয়ায় উত্তম।
ডেইলি বাংলাদেশ: কাসাভা চাষে কি কি সার প্রয়োগ ও সেচ ব্যবস্থাপনা কীভাবে করতে হয়?
ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকির: পরিমিত ও সুষম সার প্রয়োগ করে শিমুল আলুর ফলন বাড়ানো যায়। গাবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, শিমুল আলু গাছে ফসফরাসের পরিমাণ অপেক্ষাকৃত কম এবং নাইট্রোজেন ও পটাশের পরিমাণ তুলনামুলকভাবে বেশি লাগে। ফসফরাস ও পটাশিয়াম জমি তৈরির সময় মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে। অর্ধেক ইউরিয়া রোপণের সময় এবং একমাস পর বাকী অর্ধেক গাছের ২ মাস বয়সের সময় ভালোভাবে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে। কাসাভা জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না, তাই জমিতে পানি জমার সম্ভাবনা থাকলে দ্রুত নিকাশের ব্যবস্থা করতে হবে। শিমুল আলু চাষে শুষ্ক জমিতে পানি প্রয়োজন হয়। তবে চারা গজানোর সময় জমি জো (রস) অবস্থায় না থাকলে হালকা সেচ দিলে ভালো হয়।
ডেইলি বাংলাদেশ: কাসাভা ফসল সংগ্রহ ও ফলনের বিষয়ে যদি কিছু বলতেন?
ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকির: গাছের বয়স ৭-১০ মাস হলে এবং পাতা হলুদাভ হলে ফসল উত্তোলনের সময় হয়। আলু সাবধানে মাটি থেকে তুলতে হয়। আলু তোলার সময় কেটে গেলে তা তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। টাটকা আলু ৩-৫ দিনের ব্যবহার না করলে ছত্রাক দ্বারা আক্রান্ত হয়। স্টার্চ, আটা বা অন্যান্য উপাদান তৈরি করার জন্য আলু যতদূর সম্ভব তাড়াতাড়ি ব্যবহার করতে হবে। কাসাভার ফলন প্রতি হেক্টরে ৩০-৬০টন। বাকৃবির ফার্মে আলুর গড় ফলন ৫০ টন/হে, ও পাতার ২৫ টন/হে.। তবে সর্বোচ্চ আলুর ফলন ৭১ টন/হে. পাওয়া গেছে।