ডেইলি বাংলাদেশ: কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। এর মধ্যে অনুশীলন কেমন লাগছে?
মারিও লেমস: জ্বি। এটা দারুণ অভিজ্ঞতা। ভালো লাগছে। আমাদের ভেন্যু সিলেট। আমরা জানি, সিলেটে প্রায় সময়েই বৃষ্টি হয়। আর বৃষ্টির মধ্যে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে হবে। খেলার দিনেও বৃষ্টি হতে পারে। তখন পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। আমাদের বাজে অবস্থার মধ্য দিয়েও যেতে হতে পারে। তাই বৃষ্টির মধ্যে অনুশীলন হচ্ছে। ছেলেরা এ পরিবেশ মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। আমরা বৃষ্টি কিংবা রোদ- সব ধরনের পরিবেশ মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি। আমরা যেন যেকোনো পরিবেশে খেলতে পারি।
.png)
ডেইলি বাংলাদেশ: সর্বশেষ এএফসি কাপে অনেক আশা নিয়ে ভারতে গিয়েছিল আবাহনী। সেখানে দেশটির টপ লিগের দল মোহনবাগানের কাছে ৩-১ গোলে হেরে যায় ঢাকার আকাশি-নীলরা? বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
মারিও লেমস: সেবার শুরু থেকেই মোহনবাগানকে সমীহ করেছিলাম। যা আমাদের উচিত হয়নি। মোহনবাগান আমাদের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়েছে। আমাদের দল সে সময়ে চোটে জর্জরিত ছিল। ইনজুরির কারণে সে ম্যাচে খেলতে পারেননি দরিয়েলতন। ম্যাচ চলাকালে নবীব নেওয়াজ জীবন আঘাত পেয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন। জীবনের চোট পাওয়াটা আমাদের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। তখন আমরা পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে বাধ্য হই। প্রথমার্ধেই দুই গোলে পিছিয়ে পড়লেও দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কিছু সময়ের জন্য আবাহনীর ওপর ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে প্রেসিং-পাসকে কাজে লাগিয়ে খেলায় ফিরেছিলাম। জুয়েলের গোলটি হলে ম্যাচের চিত্র বদলে যেতে পারত।

ডেইলি বাংলাদেশ: মোহনবাগানের ম্যাচে গোল করেছিলেন কোস্টারিকার হয়ে বিশ্বকাপ খেলা ফরোয়ার্ড দানিয়েল কলিন্দ্রেস। এ মৌসুমে তিনি থাকছেন না। তার অভাবটা কি আপনাদের চিন্তায় ফেলে দিয়েছে?
মারিও লেমস: না.. বিষয়টা এমন নয়। এটি খেলোয়াড়ী জীবনের অংশ। দেখেন, ক্লাবে নতুন খেলোয়াড় আসবে, পুরাতন কিংবা ভালো খেলোয়াড় চলে যাবে। এটা ফুটবলের নিয়ম। দানিয়েল গত দুই মৌসুমে আবাহনীর হয়ে দারুণ খেলেছে। হয়তো তার এখানে মন টিকছে না। এটি তার খেলোয়াড়ী জীবনের অংশ। তবে আমরা নতুন খেলোয়াড় নিয়েছি- ব্রনো মার্তো, জোনাথন রেইস। এছাড়াও ডেভিড এবং কার্নেলিয়াস...তো আছেনই। তারা দায়িত্ববান খেলোয়াড়। আশা করি সামনে ভালো কিছু হবে।
ডেইলি বাংলাদেশ: ঘরের মাটিতে খেলা। ক্লাব ইগলস আপনাদের তুলনায় শক্তিশালী নয়। বিষয়টা কি আপনাদের জন্য ইতিবাচক?
মারিও লেমস: অবশ্যই। আমাদের জন্য এটি ইতিবাচক। আমরা ঘরের মাটিতে খেলতে যাচ্ছি। বাংলাদেশে খেলা হওয়ায় আমরা একটু এগিয়ে থাকবো। কারণ আবাহনী সর্বশেষ কয়েকটা ম্যাচ সিলেটের মাটিতে খেলেছে। এখানকার পরিবেশ, মাঠ আমাদের পরিচিত।
ডেইলি বাংলাদেশ: এবারের এএফসি কাপে আপনাদের মূল লক্ষ্য কী?
মারিও লেমস: এএফসি কাপে আমাদের প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে, গ্রুপ পর্বের বাধা অতিক্রম করা। আমরা চেষ্টা করব, গ্রুপ পর্বের বাধা যেন ভালোভাবে পার করতে পারি। গ্রুপ পর্বের বাধা অতিক্রম করলেই পরের পর্বে যেতে পারব। আমরা ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে চাই।
ডেইলি বাংলাদেশ: গত মৌসুমে ঘরোয়া ফুটবলে আপনার অধীনে দুটি ট্রফি (ফেডারেশন কাপ ও স্বাধীনতা কাপ) জিতেছিল আবাহনী । কিন্তু এ মৌসুমে প্রত্যেকটি ট্রফির কাছাকাছি গিয়েও ট্রফি ছোঁয়া হয়নি। দলের এমন পারফরমেন্সেকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
মারিও লেমস: এবারের ফুটবল মৌসুমটা অনেক কঠিন ছিল। আমরা ফেডারেশন কাপের রানার্স-আপ হয়েছি। আমি খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাদের পারফরমেন্সে নিয়ে কথা বলেছিলাম, তারা আমাকে জানিয়েছে- এবারের ফুটবল মৌসুমটা খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ছিল। আমাদের খেলোয়াড়রা তাদের সর্বোচ্চ দিয়েছে। আমাকে যদি প্রশ্ন করা হয়, আমি আমার দিক থেকে সর্বোচ্চটা দিয়েছি কিনা? আমি বলবো- জ্বি। দিয়েছি। আমি তাদের অনুশীলন, পরিকল্পনা কোনোটাই বাদ রাখিনি। আমি সব দিক থেকে তাদের প্রস্তুতি বিষয়টা নিয়ে কাজ করেছিলাম। কিন্তু আমরা পারিনি। ফুটবল হলো কঠিন খেলা। এখানে যেকোনো সময়, যেকোনো কিছুই হতে পারে।

ডেইলি বাংলাদেশ: এবারের এএফসি কাপে বিদেশি খেলোয়াড় বাড়ানো হয়েছে। মাঠে খেলতে পারবে ছয়জন। বিষয়টা কীভাবে দেখছেন?
মারিও লেমস: অবশ্যই এটি ইতিবাচক। এ বছরের এএফসি কাপ একটু ভিন্ন। কারণ এবারের আসরে ছয়জন বিদেশি খেলোয়াড় খেলতে পারবেন। গতবার ছিল চারজন। কিন্তু এবার সেটি থাকছে না। বিদেশি খেলোয়াড় বাড়ানো হয়েছে। বিদেশি খেলোয়াড়দের সংখ্যা বাড়ানোটা ইতিবাচক হিসেবে মনে করছি।