দেশের বাইরে পড়ালেখা ও বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার, সুযোগ-সুবিধা নিয়ে লায়লা নূর কথা বলেছেন ডেইলি বাংলাদেশের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি এবিএস ফরহাদের সঙ্গে।
ডেইলি বাংলাদেশ: কেমন আছেন?
.png)
লায়লা নূর: আলহামদুলিল্লাহ। ভালো আছি।
ডেইলি বাংলাদেশ: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে কিভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন?
লায়লা নূর: যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা করে যুক্তরাষ্ট্রে বা অন্য কোন উন্নত দেশে উচ্চশিক্ষায় যাওয়া যায়। এক্ষেত্রে আবেদনের যোগ্যতাসমূহ পূরণ করলেই আবেদন করা যায় এবং ঐ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তির অফার পেলে ভর্তি হওয়া যায়।
ডেইলি বাংলাদেশ: বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার অভিজ্ঞতা কেমন?
লায়লা নূর: আমি বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অফ সেন্ট্রাল ফ্লোরিডাতে এডুকেশন (টিসল) পিএইডি করছি। এটি আমেরিকার সবচেয়ে বড়ো বিশ্ববিদ্যালয় (শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যার হিসেবে)। এখানে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৭১ হাজার। ব্যক্তি হিসেবে আমি বরাবরই বৈচিত্র্য পছন্দ করি। আমি মনে করি, প্রতিটি ভিন্নতা একটি নতুন জানার দরজা উন্মোচন করে। যুক্তরাষ্ট্রেকে ‘melting pot’ বলা হয়ে থাকে এর বৈচিত্র্য এর জন্য। আমি ভিন্নতা, বৈচিত্র্যকে সবসময় স্বাগত জানাই। আমার কাছে মনে হয়, দেশের বাইরে আসা সেটা পড়ালেখা বা অন্য যেকোনো কারণেই হোক বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
পড়ালেখার ক্ষেত্রে বলব, বাংলাদেশ আর যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রচুর ভিন্নতা আছে। এই ভিন্নতাগুলো আমাকে আরো সমৃদ্ধ করেছে।
ডেইলি বাংলাদেশ: যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়ার প্রক্রিয়াটা কেমন ছিল?
লায়লা নূর: আমি বাংলাদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছি। আমার পেশার প্রয়োজনে আমি পিএইচডি বা উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী ছিলাম। এছাড়া বাংলাদেশের ভিন্ন কোন দেশ থেকে পড়াশোনা করার ইচ্ছা ছিল। যেহেতু আমি আগেই বলেছি, আমি ভিন্নতা, বৈচিত্র্য, নতুন কিছু জানতে ও শিখতে পছন্দ করি। এই সব কারণেই, আমি মনে করেছি, যুক্তরাষ্ট্র আমার জন্য সঠিক নির্বাচন হবে।
আমার যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে আসার প্রক্রিয়া আগে উল্লেখ্য আবেদন প্রক্রিয়ায় মতোই ছিল। আমি ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদনের যোগ্যতাসমূহ দেখেছি। যেখানে আবেদনের যোগ্যতাসমূহ পূরণ করেছি, সেখানে আবেদন করেছি। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় তারপর আমাকে ভাইভার জন্য মনোনীত করেছে। ভাইবা দেবার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। আবার কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আবেদনের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
এক্ষেত্রে আমি যেহেতু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী তাই যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী থাকাকালীন আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে চাকরি করার কোন সুযোগ নেই। তাই আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অফারের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় আমার পড়াশোনা, হেলত ইনস্যুরেন্স, লিভিং কষ্ট বহন করছে কিনা (এটাকে ফান্ডিং বলে) এই বিষয়গুলোও দেখতে হয়েছিল। সেক্ষেত্রে আমি তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফুল ফান্ডিং অফার ও আরো কিছু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আংশিক ফান্ড পেয়েছিলাম। সঙ্গতকারণেই আমি যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ফুল ফান্ডিং অফার পেয়েছিলাম সেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিই।
ডেইলি বাংলাদেশ: বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা কিভাবে উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেতে পারেন?
লায়লা নূর: বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা ভর্তির আবেদনের যোগ্যতাগুলো পূরণ করলেই আবেদন করতে পারবে। এক্ষেত্রে সাধারণত স্নাতকে সিজিপিএ ৩.০০ থাকলে, বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়েই আবেদন করা যায়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সাধারণত ইংরেজি ভাষার দক্ষতার সাপেক্ষে IELTS/TOFEL স্কোর দেখাতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় GRE স্কোরও চায়। সেক্ষেত্রে, ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজের পছন্দসই পোগ্রামে গিয়ে কী কী আবেদন যোগ্যতা চাচ্ছে তা দেখে নিতে হবে।
ডেইলি বাংলাদেশ: যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশুনার পাশাপাশি ক্যারিয়ার গঠনে কি কি সুবিধা পাবে শিক্ষার্থীরা?
লায়লা নূর: আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে চাকরির কোনো সুযোগ নেই।
যুক্তরাষ্ট্রে পড়ালেখা শেষ করার পর চাকরি করার সুযোগ আছে। এক্ষেত্রে যারা STEM ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে পড়াশোনা করেছে, তাদের তিন বছর সুযোগ দেওয়া হয় সেখানে চাকরি খোজার এবং যারা STEM ব্যাকগ্রাউন্ডের না, তাদের এর বছর সুযোগ দেওয়া হয়, সেখানে চাকরি খোঁজার জন্য। চাকরি পাবার পর তারা সেখানে চাকরি করতে পারবে।
ডেইলি বাংলাদেশ: বিদেশে পড়া শেষে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
লায়লা নূর: আমার প্রাপ্ত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে কাজে লাগানোর চেষ্টা করব।
ডেইলি বাংলাদেশ: ধন্যবাদ আপনাকে।
লায়লা নূর: আপনাকেও ধন্যবাদ।