ঢাকা,  সোমবার   ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

[ আন্তর্জাতিক ]

এল-সাইদ জিতলে ক্রিসমাস বাতিল হবে: ট্রাম্প

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৫৮, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
এল-সাইদ জিতলে ক্রিসমাস বাতিল হবে: ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী আবদুল এল-সাইদকে লক্ষ্য করে মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য আরও জোরালো করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এল-সাইদ নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রে শরিয়াহ আইন চালু হবে এবং ক্রিসমাস উদ্‌যাপনও বন্ধ হয়ে যেতে পারে—এমন দাবি করেছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ তুলে ধরেননি ট্রাম্প।

রোববার মিশিগানের পোর্ট হুরন শহরে এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন ট্রাম্প। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত ওই সমাবেশে প্রায় দুই ঘণ্টা বক্তব্য দেন তিনি। এর বড় অংশজুড়েই ছিল মিশিগানের সিনেট নির্বাচন ও ডেমোক্রেটিক প্রার্থী এল-সাইদকে নিয়ে আক্রমণ।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বক্তব্যে এল-সাইদকে ‘জিহাদি’ আখ্যা দেওয়াসহ তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, সিনেটে প্রবেশের আগে মেটাল ডিটেক্টরের মধ্য দিয়ে যেতে হবে—এমন একমাত্র সিনেটর হবেন এল-সাইদ। এ সময় তার জন্য মেটাল ডিটেক্টর রাখার পক্ষেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

সমাবেশে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, এল-সাইদ যুক্তরাষ্ট্রে শরিয়াহ আইন চালু করতে চান। তিনি আরও বলেন, এল-সাইদ ও ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচনে জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম অভিবাসন বেড়ে যাবে এবং সহিংসতা ও সন্ত্রাসের আশঙ্কা তৈরি হবে। এমন পরিস্থিতিতে ক্রিসমাস উদ্‌যাপনও সম্ভব হবে না বলে দাবি করেন তিনি।

এল-সাইদের নাম উচ্চারণের সময় সমাবেশে উপস্থিত কয়েকজনকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে চিৎকার করতে শোনা যায়। ট্রাম্প তাকে মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য বলেও উল্লেখ করেন। তবে এল-সাইদ যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী নাগরিক এবং দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মুসলিম ব্রাদারহুড বা অন্য কোনো বিদেশি সংগঠনের সদস্য ছিলেন—এমন প্রমাণের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

মিশিগানের সিনেট আসনটি এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অবসরে যাওয়া ডেমোক্রেটিক সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনে এল-সাইদের প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স। সিনেটে বর্তমানে রিপাবলিকানদের ৫৩টি আসন রয়েছে। রজার্স জয়ী হলে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে দলটির সুবিধা বাড়বে, অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পাওয়ার পথ আরও কঠিন হবে।

ট্রাম্প এর আগেও এল-সাইদের মুসলিম পরিচয় নিয়ে আক্রমণ করেছেন। এর আগে তার নাম ভুলভাবে ‘মোহাম্মদ’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ২০১৫ সালে নিজের প্রথম নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করার পক্ষে বক্তব্য দিয়েছিলেন। পরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে কয়েকটি মুসলিমপ্রধান দেশ থেকে ভ্রমণে বিধিনিষেধ আরোপ করে নির্বাহী আদেশে সই করেন, যা ‘মুসলিম নিষেধাজ্ঞা’ নামে পরিচিতি পায়।

অন্যদিকে, এল-সাইদ এসব আক্রমণকে মূল ইস্যু থেকে মানুষের মনোযোগ সরানোর চেষ্টা হিসেবে দেখেছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানোর মতো অভ্যন্তরীণ বিষয়েই গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর/জেডআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!