ঢাকা,  সোমবার   ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

[ রাজনীতি ]

আসামের বাঙালি মুসলমানদের লড়াই বাংলাদেশেরও: নাহিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:১৪, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
আসামের বাঙালি মুসলমানদের লড়াই বাংলাদেশেরও: নাহিদ
আসামে সহস্রাধিক বাড়িঘর ও মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। সংগৃহীত ছবি

আসামের বাঙালি মুসলমানদের অধিকার ও অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামকে বাংলাদেশের লড়াই হিসেবেও দেখছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

আসামে বাঙালি মুসলমানদের বাড়িঘর ও মসজিদ উচ্ছেদের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেছেন, এসব অভিযান শুধু বসতবাড়ি উচ্ছেদের ঘটনা নয়; বরং এর মধ্য দিয়ে ওই জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক উপস্থিতি ও রাজনৈতিক অস্তিত্ব মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। এতে আসামের উচ্ছেদ অভিযান, নাগরিকত্ব, ভাষাগত পরিচয়, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং বাংলাদেশের কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

পোস্টে নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, গত ১৭ ও ১৮ অক্টোবর আসামে বাংলাভাষী মুসলমানদের ১ হাজার ১০০টির বেশি বাড়িঘর এবং ১০টিরও বেশি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে অন্তত ৩৩টি উচ্ছেদ অভিযানে ২২ হাজারের বেশি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। এসব অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে একই জনগোষ্ঠীকে বারবার বেছে নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন বিজেপির রাজনীতির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, রাজ্যটির জাতিগত পরিচয়কেন্দ্রিক রাজনীতি এখন ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের কাঠামোয় পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে বাংলাভাষী মুসলমানেরা বিশেষভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নাহিদ ইসলামের দাবি, নাগরিকত্ব ও ভোটার তালিকা-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রক্রিয়ার পাশাপাশি উচ্ছেদ অভিযানও ওই জনগোষ্ঠীর অধিকারকে সংকুচিত করছে। জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) থেকে বাদ পড়া ১৯ লাখ মানুষের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) অমুসলিমদের জন্য নাগরিকত্বের সুযোগ তৈরি করলেও মুসলমানদের ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে। সীমান্ত দিয়ে মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর অভিযোগও তোলেন তিনি।

পোস্টে আসামের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, সিলেট ও করিমগঞ্জের ইতিহাসের কারণে বরাক উপত্যকার মানুষের সঙ্গে বাংলাদেশের, বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের, গভীর আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। ১৯৪৭ সালের গণভোটে সিলেটের অধিকাংশ অংশ পূর্ববঙ্গে যুক্ত হলেও করিমগঞ্জের কিছু অংশ আসামে থেকে যায় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

১৯৬১ সালের ১৯ মে শিলচর রেলস্টেশনে বাংলা ভাষার দাবিতে পুলিশের গুলিতে ১১ জনের মৃত্যুর ঘটনাও স্মরণ করেন নাহিদ ইসলাম। তার মতে, ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বাঙালি হিন্দু ও মুসলমানের যৌথ ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার। পাশাপাশি ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার বাংলাভাষী মুসলমানদের ভাষাগত পরিচয় ও নাগরিক অধিকার রক্ষার সংগ্রামের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

আসামে বাঙালি মুসলমানদের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ভূমিকার উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, লাইন প্রথা ও বাঙাল খেদাও রাজনীতির বিরুদ্ধে তার সংগ্রাম ওই জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম। তার মতে, শুধু কূটনৈতিক চিঠি দিয়ে সীমান্ত দিয়ে মানুষকে ঠেলে পাঠানোর অভিযোগের সমাধান সম্ভব নয়। এ পরিস্থিতিতে সরকারের একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিষয়টি তুলে ধরা এবং জোরপূর্বক সীমান্ত পার করে দেওয়ার ঘটনা গ্রহণ না করার আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।

একই সঙ্গে আসামের পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে কোনো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা যেন বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। নাহিদ ইসলামের মতে, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখেই এ সংকট মোকাবিলা করতে হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!