ঢাকা,  রোববার   ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

[ রাজনীতি ]

মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি, তদন্ত চাইলেন মাসুদ সাঈদী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৩০, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি, তদন্ত চাইলেন মাসুদ সাঈদী
বাঁয়ে মানিক পরাশী, ডানে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সঙ্গে মাসুদ সাঈদী। ফাইল ছবি

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে তার মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও রাষ্ট্রীয় সুবিধার বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। একই সঙ্গে মানিক পশারীর জানাজা বা দাফন নিয়ে কোনো আপত্তি ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপত্তি ছিল তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া নিয়ে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর এই সংসদ সদস্য।

পোস্টে মাসুদ সাঈদী দাবি করেন, মানিক পশারী শনিবার গোপালগঞ্জের একটি হাসপাতালে মারা যান। পরে তার মরদেহ পিরোজপুরে নেওয়া হলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন তার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে আপত্তি তোলেন এবং গার্ড অব অনার প্রদানে বাধা দেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মাসুদ সাঈদী বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মানিক পশারীকে গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও স্থানীয়দের আপত্তি ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি এবং পিরোজপুরের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলেও জানান।

তিনি আরও বলেন, মানিক পশারীর জানাজা বা দাফনে তাদের কোনো আপত্তি ছিল না। তবে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার ভাষ্য, এ ধরনের ঘটনায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ ও রাষ্ট্রীয় সম্মানের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হতে পারে।

ফেসবুক পোস্টে মাসুদ সাঈদী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানিক পশারীর দেওয়া সাক্ষ্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তার দাবি, ট্রাইব্যুনালে জেরার সময় মানিক পশারী সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নেওয়ার কথা বলেছিলেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছিলেন। এ ছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য একেএমএ আউয়ালের দেওয়া একটি ডিও লেটারের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন তিনি।

এসব বক্তব্যের ভিত্তিতে মানিক পশারী কীভাবে গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা হলেন, তা তদন্তের দাবি জানান মাসুদ সাঈদী। তার মতে, এ প্রক্রিয়ায় কোনো কর্মকর্তা, যাচাই-বাছাই কমিটি বা রাজনৈতিক ব্যক্তি অনিয়মে জড়িত থাকলে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা উচিত।

একই সঙ্গে মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তির বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া, অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সাবেক সংসদ সদস্য একেএমএ আউয়ালের ভূমিকা তদন্তেরও দাবি জানান তিনি।

তবে মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে মাসুদ সাঈদীর উত্থাপিত অভিযোগ এবং তার পোস্টে উল্লেখ করা বক্তব্যের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা যায়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা অন্য পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!