ঢাকা,  রোববার   ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

[ অর্থনীতি ]

১৮টি দেশে রপ্তানি বাড়াতে সরকারের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৪৩, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
১৮টি দেশে রপ্তানি বাড়াতে সরকারের উদ্যোগ
ছবি: সংগৃহীত

রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং নতুন বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের অবস্থান শক্তিশালী করতে ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ দেশে পৃথক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে সরকার। এসব দেশের বাজার চাহিদা, বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা, প্রতিযোগী দেশ এবং বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় পণ্য চিহ্নিত করে রপ্তানি বাড়ানোর কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে।

উদ্যোগের আওতায় চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজারকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিশ্ব বাণিজ্যের কেন্দ্র এশিয়ামুখী হওয়া এবং পশ্চিমা বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি কমে আসার প্রেক্ষাপটে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন পণ্য ও বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি আঞ্চলিক উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়া প্রয়োজন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ দশমিক ৬২ শতাংশ এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে গত আট মাসে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও রপ্তানি কমেছে প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ। এ পরিস্থিতিতে বিকল্প বাজার তৈরি ও নতুন পণ্য রপ্তানির ওপর গুরুত্ব বাড়ছে।

এশিয়ার বড় অর্থনীতিগুলোতে বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো তুলনামূলক সীমিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি বাজারে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে চীনে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ, ভারতে ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় ৭ দশমিক ২৯ শতাংশ। তবে এসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি এখনো বড়।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান রেহমান সোবহানের মতে, বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্র এশিয়ার দিকে সরে আসায় বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে আঞ্চলিক বাজার ও সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে দেশের সংযোগ বাড়ানো জরুরি।

ব্যবসায়ীদের মতে, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে পণ্যের বৈচিত্র্য, দ্রুত সরবরাহ, মানোন্নয়ন এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোতে উচ্চ শুল্ক ও বাণিজ্যচুক্তির সীমাবদ্ধতা বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান পণ্য রপ্তানির পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, দক্ষতাভিত্তিক সেবা ও ফ্রিল্যান্সিং খাতেও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, দেশভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা গেলে নতুন বাজারে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবার রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!