ঢাকা,  সোমবার   ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

সিরাজগঞ্জে ১৬ বছর ধরে সংসার করছে বট-পাকুড়

গাজী শাহাদত হোসেন ফিরোজী, সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ১২:২৫, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
সিরাজগঞ্জে ১৬ বছর ধরে সংসার করছে বট-পাকুড়
সিরাজগঞ্জে ১৬ বছর ধরে সংসার করছে বট-পাকুড়। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সিরাজগঞ্জে স্বপ্ন দেখে বট-পাকুড়ের বিয়ে ১৬ বছর ধরে করছে সংসার। জেলার সদর উপজেলার সায়দাবাদ ইউনিয়নের খিদির বটতলা বাসিন্দা রাজেন্দ্রনাথ সরকার ও তার স্ত্রী করিবালা সরকারের সংসারে ছয় মেয়ে। তবে তাদের ষষ্ঠ মেয়ে কোনো মানুষ নয়, একটি বটগাছ। নাম তার বটেশ্বরী আর মেয়ে জামাই বটেশ্বরীর পাশের পাকুড়গাছ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৬ বছরের বেশি সময় ধরে সংসার করছে বটেশ্বরী আর পাকুড় গাছ। প্রতিবছর বটেশ্বরীর জন্য আসে নতুন শাড়ি আর পাকুড়গাছের জন্য ধুতি। সপ্তাহে তিন দিন হয় পূজা-অর্চনা, দেওয়া হয় দুধ-কলা ও নানা রকম ভোগ। মানত পূরণের আশায় কেউ বাঁধেন লাল সুতো, কেউ ঝুলিয়ে রাখেন তাবিজ আবার কেউ উপহার নিয়ে ছুটে আসেন দূর-দূরান্ত থেকে।

রাজেন্দ্রনাথ-করিবালা দম্পতি জানান, ২০১০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করা হয় বটেশ্বরী ও পাকুড়গাছকে। সেই থেকে কেটে গেছে ১৬ বছর। স্থানীয়দের বিশ্বাস, গাছ দুটি আজও স্বামী-স্ত্রী, আর তাদের ঘিরেই চলছে নানা আচার-অনুষ্ঠান।

এই ব্যতিক্রমী বিয়ের পেছনে রয়েছে একটি স্বপ্ন, একটি পরিবারের দুশ্চিন্তা এবং গ্রামবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগের গল্প।

এলাকাবাসী জানান, রাজেন্দ্রনাথ-করিবালার মেয়ে মুক্তি সরকারের বিয়ের আগে এক রাতে নাকি স্বপ্ন দেখেন রাজেন্দ্রনাথ। তার ভাষায়, স্বপ্নে বটেশ্বরী ও পাকুড়গাছ এসে আমাকে বলে, মুক্তির বিয়ের আগেই যেন তাদের দুজনের বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু সেই স্বপ্নকে গুরুত্ব না দিয়ে আমি প্রথমে মেয়ের বিয়ে দেই।

একপর্যায়ে স্বপ্নের বিষয়টি তিনি পরিবারের সদস্য ও গ্রামবাসীকে জানান। পরে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে বটেশ্বরী ও পাকুড়গাছের বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মুক্তি সরকারের স্বামী দিরেশ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, মুক্তির সঙ্গে আমার বিয়ের পরে আমার শ্বশুর ও গ্রামবাসীর সহযোগিতায় বটগাছ ও পাকুড়গাছের বিয়ে দেওয়া হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/সিরাজগঞ্জ/জেডআই
ট্যাগ: সিরাজগঞ্জ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!