মহাধুমধামে বট-পাকুড়ের বিয়ে, ৩ লাখ টাকার আপ্যায়ন
দিনাজপুরে পাঁচ হাজার অতিথির উপস্থিতিতে বুধবার মহাধুমধামে অনুষ্ঠিত হলো বট-পাকুড়ের বিয়ে। এরআগে মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয় গায়ে হলুদ।ব্যতিক্রমী এ বিয়েকে ঘিরে নেয়া হয় ব্যাপক আয়োজন। রঙিন কাপড় দিয়ে নির্মাণ করা হয় দুটি গেট। সাজসজ্জা ও আলপনায় প্রস্তুত করা হয় ছাদনাতলা ও মাড়োয়া। বিয়ে পড়ান চার পুরোহিত। অতিথিদের নিমন্ত্রণপত্র দিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়। অতিথি আপ্যায়নে ছিল নিরামিষ খাবার।
দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টি শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে বট ও পাকুড় গাছের মধ্যে এ বিয়ের আয়োজন করেন এলাকাবাসী ও ভক্তরা। সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষদের অমঙ্গল থেকে রক্ষা করার বিশ্বাস থেকে বট-পাকুড়ের বিয়ের আয়োজন করা হয় বলে জানান আয়োজকরা।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গায়ে হলুদের আয়োজনের মধ্যদিয়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বরের পিতা হয়েছেন আয়োজক দিলীপ ঘোষ।
তিনি বলেন, প্রকৃতির মঙ্গলের জন্য বট ও পাকুড়গাছের বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। সনাতন রীতি অনুযায়ী যেভাবে মানুষের বিয়ে হয়, সেভাবে বট-পাকুড়ের বিয়ে দেওয়া হলো। এতে আপ্যায়ন খরচ ধরা হয়েছিল তিন লাখ টাকা। প্রায় পাঁচ হাজার অতিথিকে আপ্যায়ন করা হয়েছে।
কনের পিতা মুন্না সাহা বলেন, বটগাছ মেয়ে। আমি মেয়ের বাবা হয়েছি। ছেলে পাকুড়গাছের মা দিপ্তী ঘোষ আমরা প্রতিবেশী। বিয়েকে ঘিরে আমরা আনন্দ-উল্লাস করছি।
দিনাজপুর নাট্য সমিতির সভাপতি চিত্ত ঘোষ বলেন, প্রকৃতি ও ব্যক্তির মঙ্গল কামনায় বট-পাকুড়ের বিয়ে দেওয়া হয়। বাসুনিয়াপট্টি দুর্গা মন্দিরে চকবাজার এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ প্রকৃতির মঙ্গল কামনায় এমন বিয়ের আয়োজন করে। বিয়েকে ঘিরে দুদিন ধরে ছিল ব্যাপক আনন্দ-উৎসব।