ইরান যুদ্ধ ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ট্রাম্পকে তুলোধুনো করলেন ওবামা
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে ইরান যুদ্ধ, মূল্যবৃদ্ধি ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থীদের পক্ষে শনিবার ওহাইও ও মিশিগানে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন তিনি।
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে প্রচারের শেষ পর্যায়ে ওবামার এই সক্রিয়তা ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের ৩৫টি আসনে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।
ওহাইওর ক্লিভল্যান্ডে সমর্থকদের উদ্দেশে ওবামা বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে লাগাম টানা এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য এই নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তিনি বলেন, আধুনিক সময়ে দেখা যায়নি—এমন বিশৃঙ্খলা, নিষ্ঠুরতা, দুর্নীতি ও অযোগ্যতার অভিযোগে গত দুই বছর কেটেছে। এখন ভোটারদের সামনে পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার সুযোগ এসেছে।
ট্রাম্পের ইরান নীতি নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তোলেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। তার অভিযোগ, অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধে জড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ওবামার মতে, ট্রাম্পের নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বিগ্ন ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার আগে পণ্যের দাম বেশি ছিল—এমন যুক্তি দেওয়া হলেও এখন অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে।
মিশিগানের ডেট্রয়েটে সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের পক্ষে প্রচার চালানোর সময় ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক স্বার্থে সরকারি ক্ষমতা ব্যবহারের অভিযোগও তোলেন ওবামা। তার বক্তব্য, জনগণের করের অর্থ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে ভোটারদের ভাবতে হবে। হোয়াইট হাউস সংস্কারে ট্রাম্পের ব্যয়বহুল আয়োজন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সামরিক সদস্যদের বাহ্যিক উপস্থিতি নিয়ে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়েও ব্যঙ্গ করেন তিনি।
অন্যদিকে, ট্রাম্প শনিবার জর্জিয়ার এক সমাবেশে অভিবাসন ও শুল্কনীতির পক্ষে বক্তব্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সুবর্ণ যুগে’ প্রবেশের দাবি করেন। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ওবামাকে ‘চরম অযোগ্য’ বলে আক্রমণ করেন তিনি। ওবামার ইরান নীতি এবং অতীতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার নিয়েও সমালোচনা করেন ট্রাম্প।
একই পোস্টে ট্রাম্প আবদুল এল-সায়েদকে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যুক্ত ‘জিহাদি’ বলে আখ্যা দেন এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। এল-সায়েদ মিশিগানে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের বিরুদ্ধে সিনেট নির্বাচনে লড়ছেন।
নির্বাচনের আগে দুই দলের নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে ইরান যুদ্ধ, অর্থনীতি, অভিবাসন ও রাজনৈতিক জবাবদিহি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। আগামী ৩ নভেম্বরের ভোটে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বদলালে ট্রাম্প প্রশাসনের বাকি মেয়াদে আইন প্রণয়ন ও নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়তে পারে।