ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

ট্রাম্পের সঙ্গে মোদির ফোনালাপ

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:০৪, ১ অক্টোবর ২০২৬
ট্রাম্পের সঙ্গে মোদির ফোনালাপ
ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বুধবার ফোনে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফোনালাপে দুই দেশের বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন তারা।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) জানিয়েছে, ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও এগিয়ে নিতে দুই নেতা নিজেদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। দুই দেশের জনগণের স্বার্থে সহযোগিতা গভীর করতে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার বিষয়েও তারা একমত হয়েছেন। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিস্থিতি এবং বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় চলমান উদ্যোগ নিয়েও মতবিনিময় করেন।

Advertisement

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে মোদি ফোনালাপটিকে ‘ফলপ্রসূ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও অন্যান্য পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এদিকে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি পারস্পরিক লাভজনক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করতে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফরে বলেন, চুক্তি নিয়ে দুই দেশ মোটামুটি একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে দ্রুত অগ্রগতির প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় আলোচনা কঠিন হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জয়শঙ্কর আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির পরিবর্তন এবং ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ধারা ৩০১-এর আওতায় চলমান প্রক্রিয়াগুলো চুক্তি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ধারা ৩০১ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র কোনো দেশের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডকে অন্যায্য মনে করলে তদন্ত এবং অতিরিক্ত শুল্কসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নিতে পারে।

বাণিজ্য আলোচনার পাশাপাশি রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা আইনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও ভারতের উদ্বেগ রয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘Lindsey O. Graham Sanctioning Russia and Iran Act of 2026’ আইনে স্বাক্ষর করেন। এতে রুশ জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে। ভারত ও চীনও সম্ভাব্যভাবে এর আওতায় পড়তে পারে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও জানিয়েছে নয়াদিল্লি। একই সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় এসব বিষয়ে ভারতের উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকে নতুন নিষেধাজ্ঞা আইনের বিষয়ে ভারতের স্বার্থ ও উদ্বেগের কথা জানান। ভারতীয় কর্মকর্তারা মনে করছেন, এসব পদক্ষেপের প্রভাব শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেই নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে।

বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে ভারত। দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকার এ বিষয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন। সেখানে তিনি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি ও একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!