ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ স্বাস্থ্যকথা ]

সব ওষুধের দাদা, যার নাম আদা

মেহেবুবা
প্রকাশিত: ১০:০৩, ১ অক্টোবর ২০২৬
সব ওষুধের দাদা, যার নাম আদা
বেশি পরিমাণে আদা গ্রহণ না করাই ভালো। বিশেষ করে কেউ নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে আদার সাপ্লিমেন্ট বা বেশি পরিমাণে আদা গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

যেভাবেই খান না কেন, এটি কিন্তু একটি উপকারী খাদ্যবস্তু। উপকারী ভেষজ হিসেবে এর অনেক নামডাক। নানা ধরনের ভিটামিন ও দেহের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ ও পুষ্টি উপাদানে ভরপুর একটি ভেষজ এটি। তাই আদাকে সব রোগ নিরাময়ের দাদাও বলা হয়ে থাকে। আদা ওষুধ হিসেবে ব্যবহারের একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।

প্রতিদিনের রান্নায় ব্যবহৃত পরিচিত মসলা আদা শুধু খাবারের স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়ায় না, এর কিছু সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতাও রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় বমি বমি ভাব, মাসিকের ব্যথা এবং ব্যায়ামের পর পেশির ব্যথার মতো কিছু সমস্যায় আদার সম্ভাব্য ভূমিকার কথা উঠে এসেছে। তবে সব ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যায় আদার কার্যকারিতার পক্ষে সমান শক্তিশালী প্রমাণ নেই।

চা, স্যুপ, তরকারি কিংবা অন্যান্য খাবারের সঙ্গে সহজেই আদা খাওয়া যায়। সাধারণ খাবারে ব্যবহৃত পরিমাণকে আদার সম্ভাব্য উপকার পাওয়ার একটি সহজ উপায় হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে আদা খেলে পেটের অস্বস্তি, বুকজ্বালা, ডায়রিয়া বা মুখ ও গলায় জ্বালাপোড়া হতে পারে।

Advertisement

আদার সবচেয়ে বেশি আলোচিত ব্যবহারগুলোর একটি হলো বমি বমি ভাব কমাতে সহায়তা করা। যুক্তরাষ্ট্রের National Center for Complementary and Integrative Health (NCCIH) বলছে, গবেষণায় গর্ভাবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত বমি বমি ভাব ও বমি কমাতে আদা উপকারী হতে পারে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে ভ্রমণজনিত বমি বমি ভাবের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণার ফল একেবারে নিশ্চিত নয়।

  • পিরিয়ডের সময় তলপেটে ব্যথা ও অস্বস্তি অনেকের জন্য পরিচিত সমস্যা। গবেষণায় আদা গ্রহণের সঙ্গে মাসিকের ব্যথার তীব্রতা কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। 

২০২৪ সালের একটি systematic review ও meta-analysis-এও আদা প্লাসিবোর তুলনায় মাসিকের ব্যথার তীব্রতা ও স্থায়িত্ব কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গবেষণাগুলোর কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে।

ব্যায়াম বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের পর পেশিতে ব্যথা হতে পারে। কিছু গবেষণায় আদা গ্রহণের পর ব্যায়ামজনিত পেশির ব্যথা কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে পেশি ও জয়েন্টের ব্যথার চিকিৎসায় আদা কতটা কার্যকর, সে বিষয়ে সামগ্রিক বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো স্পষ্ট নয়।

  • হজমের অস্বস্তি, পেটের সমস্যা ও বমি বমি ভাবের জন্য আদা বহুদিন ধরে প্রচলিতভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে কোষ্ঠকাঠিন্যসহ নির্দিষ্ট হজমের সমস্যার চিকিৎসা হিসেবে আদাকে নিশ্চিত সমাধান বলা যায় না। এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

আদা কোলেস্টেরল কমায় বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় এ ধরনের দাবি প্রচলিত হলেও এসব ক্ষেত্রে আদার কার্যকারিতা নিয়ে শক্তিশালী প্রমাণ সব ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না। তাই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ বা কোনো রোগ প্রতিরোধের জন্য শুধু আদার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

চা, স্যুপ, তরকারি কিংবা অন্যান্য খাবারের সঙ্গে পরিমিত আদা খাওয়া যেতে পারে। কাঁচা আদা সরাসরি খাওয়ার প্রয়োজন নেই। 

তবে বেশি পরিমাণে আদা গ্রহণ না করাই ভালো। বিশেষ করে কেউ নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে আদার সাপ্লিমেন্ট বা বেশি পরিমাণে আদা গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, আদাকে কোনো রোগের বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে নয়, বরং সুষম খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হিসেবেই দেখা উচিত।

সোর্স : NCCIH, Health Science

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসএমএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!