ছাত্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করলেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট
ছাত্র নেতৃত্বাধীন দীর্ঘ আন্দোলন ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ পদত্যাগ করেছেন। তবে প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়লেও রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছেন না তিনি। আগামী ২৫ অক্টোবরের আগাম সংসদীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির (এসএনএস) হয়ে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হওয়ার পথ তৈরি করতেই তার এই সিদ্ধান্ত।
ভুচিচ ২০১৪ সাল থেকে প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সার্বিয়ার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন। তার দ্বিতীয় ও শেষ প্রেসিডেন্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক মাস আগেই পদত্যাগের ঘোষণা আসে। সংবিধান অনুযায়ী, নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত পার্লামেন্টের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন।
.png)
ভুচিচের পদত্যাগের পেছনে দীর্ঘদিনের ছাত্র আন্দোলন ও সরকারবিরোধী বিক্ষোভ বড় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর আন্দোলন শুরু হয়। পরে দুর্নীতি, স্বচ্ছতার অভাব ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভকারীদের দীর্ঘদিনের দাবির মধ্যে আগাম নির্বাচনও ছিল। সেপ্টেম্বরে সার্বিয়া সরকার আগাম সংসদ নির্বাচনের পথ তৈরি করে এবং ২৫ অক্টোবর ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। নির্বাচনে ভুচিচের দল এসএনএসের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ছাত্র আন্দোলন ও বিভিন্ন বিরোধী দলের সমন্বয়ে ‘স্টুডেন্টস উইন’ বা ‘ছাত্রদের জয়’ জোট মাঠে রয়েছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে সার্বিয়ায় গত কয়েক দশকের অন্যতম বড় বিক্ষোভ হয়েছে। আন্দোলনকারীরা সরকারি প্রতিষ্ঠান, দুর্নীতি ও জনঅর্থ ব্যবহারে আরও স্বচ্ছতার দাবি জানিয়ে আসছেন। অন্যদিকে ভুচিচ ও তার মিত্ররা আন্দোলনকারীদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ভুচিচের পদত্যাগের প্রভাব সার্বিয়ার বাইরেও পড়তে পারে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। পশ্চিম বলকান অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সার্বিয়ার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, মন্টেনেগ্রো ও কসোভোর সার্ব জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বেলগ্রেডের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় দেশটির রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকে প্রতিবেশীরাও নজর রাখছে।
এদিকে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সার্বিয়ার ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সম্পর্ক এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের প্রক্রিয়াও দেশটির নির্বাচনী আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একই সঙ্গে প্রতিবেশী ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর তুলনায় আয় ও জীবনযাত্রার মানের পার্থক্যও ভোটারদের আলোচনায় রয়েছে।
আগামী ২৫ অক্টোবরের সংসদীয় নির্বাচন এবং পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সার্বিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি দেশটির ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া, চীন ও পশ্চিম বলকানের সঙ্গে সম্পর্কের গতিপথেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।