গত শনিবার (৩০ নভেম্বর) স্থানীয় সময় রাতে গুয়ানাজুয়াতো রাজ্যের অ্যাপাসিও এল গ্র্যান্ডে শহরে ওই হামলার ঘটনা ঘটে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। ওই ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় খাবারের দোকান, টিকিট কাউন্টারসহ বেশ কিছু দোকান রয়েছে।
কার্টেল (মাদকের সঙ্গে জড়িত অপরাধ সংগঠন) অধ্যুষিত গুয়ানাজুয়াতো রাজ্যের প্রসিকিউটররা জানান, দোকানটির বাইরে আটজন মানুষ নিহত হন। সেখানে একটি ঐতিহ্যবাহী দুধের তৈরি ফাজ বিক্রি করা হচ্ছিল। আক্রমণে আরো একজন পুরুষ এবং একজন নারী আহত হয়েছেন। তবে তাদের অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু যায়নি।
.png)
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বন্দুকধারীর গুলিতে নিহতদের মধ্যে একজন প্যারামেডিকও রয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় অ্যাম্বুলেন্স ও প্যারামেডিক এজেন্সি জানায়, শনিবার রাতে একজন জরুরি মেডিকেল টেকনিশিয়ান মারা গেছেন। তবে তিনি হামলায় নিহতদের একজন কি না তা নিশ্চিত করতে পারেননি।
এদিকে এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। গুয়ানাজুয়াতো একটি সমৃদ্ধশিল্প কেন্দ্র এবং সেখানে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় পর্যটন হাব অবস্থিত। তবে একে মেক্সিকোর সবচেয়ে সহিংস রাজ্য হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।
এর আগে গত ৪ অক্টোবর গুয়ানাজুয়াতোর সালামানকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ১২ জন পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ পাওয়া যায়।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সান্তা রোসা দে লিমা গ্যাং এবং জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেলের মধ্যে দ্বন্দ্ব থেকেই সেখানে সহিংসতার সূত্রপাত।
মেক্সিকোর নতুন প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাউম গত ১ অক্টোবর দায়িত্ব নেয়ার পরেও বিভিন্ন গ্যাংয়ের মধ্যে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে গত নভেম্বরে মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলীয় শহর কেরেতারোর একটি বারে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় ১০ জন নিহত হয়।
হামলার পর সন্দেহভাজনদের মধ্যে একজনকে আটক করা হয়। হামলায় ব্যবহৃত গাড়িটিকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়ার পর সেটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সে সময় স্থানীয়রা জানান, কেরেতারোর মতো শান্ত শহরে এ ধরনের হামলা খুবই অস্বাভাবিক।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মেক্সিকোয় মাদক চক্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে সহিংসতা ক্রমশ বাড়ছে। ২০০৬ সাল থেকে দেশটিতে মাদক ও গ্যাং-সংক্রান্ত সহিংসতায় ৪ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।