বুধবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, বিগত ২৪ ঘণ্টায় সংঘর্ষে ৩৮ জন ইসরায়েলি সেনা আহত হয়েছেন। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি আল-মায়াদিন প্রকাশ করেছে।
এদিকে, হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি বাহিনীর একাধিক অনুপ্রবেশের চেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে তাদের লড়াই চলছিল।
.png)
হিজবুল্লাহ বৃহস্পতিবার সকালে জানায়, তারা রাস আল-নাকুরার দিকে অগ্রসরমান একটি ইসরায়েলি ট্যাংকে গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত হানে। এর ফলে সেখানে ইসরায়েলি বাহিনীতে প্রাণহানি ঘটে।
এছাড়া হিজবুল্লাহ আরো দাবি করেছে, আহত সেনাদের উদ্ধারে যাওয়া ইসরায়েলি বাহিনীর ওপরও হামলা চালানো হয়।
ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের নাকুরায় অবস্থিত জাতিসংঘের অস্থায়ী বাহিনী (ইউএনআইএফআইএল) এর সদর দফতরে এবং এর পার্শ্ববর্তী অবস্থানগুলোর দিকে গোলাবর্ষণ করেছে। নাকুরার এই ঘাঁটিতে ইতালির সেনা সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। এই ঘটনায় রোম ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
জাতিসংঘের মিশন এক বিবৃতিতে জানায়, ইউএনআইএফআইএল-এর নাকুরা সদর দফতর এবং এর কাছাকাছি অবস্থানগুলো বারবার ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে একটি ইসরায়েলি মেরকাভা ট্যাংক থেকে সরাসরি একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে গুলি ছোঁড়া হয়। এতে দুজন শান্তিরক্ষী আহত হন এবং তারা মাটিতে পড়ে যান।
জাতিসংঘ মিশন আরো জানায়, আমরা আইডিএফ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষকে মনে করিয়ে দিচ্ছি যে, জাতিসংঘের কর্মী এবং সম্পদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার এবং জাতিসংঘের স্থাপনার অখণ্ডতা রক্ষা করার দায়িত্ব তাদের রয়েছে।
যুদ্ধ বন্ধে ইসরায়েলি সেনাদের প্রতিবাদ
এই যুদ্ধের মধ্যে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ভেতরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। একশ’র বেশি ইসরায়েলি সেনা ঘোষণা দিয়েছেন যে, তারা সামরিক বাহিনীতে সেবা দেওয়া বন্ধ করে দেবে যদি সরকার অবিলম্বে গাজায় যুদ্ধ বন্ধ এবং জিম্মিদের মুক্তির জন্য কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়।
এই সেনারা একটি চিঠি স্বাক্ষর করে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার সদস্যদের এবং আইডিএফের চিফ অব স্টাফের কাছে পাঠিয়েছেন। এই চিঠিতে বলা হয়, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া কেবল জিম্মিদের মুক্তি বিলম্বিত করছে না, বরং তাদের জীবনকেও হুমকির মুখে ফেলছে। আইডিএফ-এর হামলায় ইতোমধ্যে অনেক জিম্মি নিহত হয়েছেন, যা আমাদের জন্য বেদনাদায়ক। যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে আরও অনেক জিম্মি মৃত্যু হতে পারে।
চিঠিতে আরো বলা হয়, আমরা যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেবাদান করেছি, তারা ঘোষণা করছি যে, যদি সরকার অবিলম্বে এই যুদ্ধে নীতিগত পরিবর্তন না আনে এবং জিম্মিদের মুক্তির জন্য কার্যকর উদ্যোগ না নেয়, তবে আমরা আর সেবা চালিয়ে যেতে সক্ষম হবো না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ভেতরে এই ধরনের প্রতিবাদ এবং হতাশা একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। গাজায় চলমান সংঘর্ষে ইসরায়েলি বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ এবং জনমতের চাপ এই সংকটকে আরও গভীর করেছে। দেশটির সরকার এবং সামরিক বাহিনীর জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে একদিকে যুদ্ধ অব্যাহত রাখার নীতি রয়েছে, অন্যদিকে জিম্মিদের মুক্তি ও যুদ্ধবিরতির জন্য জনগণের চাপ রয়েছে।