জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের নেতৃত্বে সুদানের সেনাবাহিনী এবং তার সাবেক ডেপুটি মোহাম্মদ হামদান দাগালোর নেতৃত্বে আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে ক্ষমতার লড়াই শুরু হলে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে এই সংঘাতে হতাহতের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৫২ হাজার। এসময় বাস্তুচ্যুত হয়েছে কমপক্ষে এক কোটি মানুষ।
বিভিন্ন ত্রাণ গোষ্ঠী এবং এমনকি জাতিসংঘের একাধিক সতর্কতা থেকে সংকটের মাত্রা স্পষ্ট হয় যে, সুদান এখন একটি বিপর্যয়কর পয়েন্টের শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছে।
.png)
সুদান যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং তীব্রতা সত্ত্বেও বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে এটি অন্যান্য সংঘাতের মতো বৈশ্বিক মনোযোগ পায়নি, বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বের কাছ থেকে। ‘সুদানে সংঘাতের ভয়াবহতা অনেক বেশি তবে পশ্চিমাদের জন্য এটি ইউক্রেন বা গাজার মতো ভূ-রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়,’ এমনটি বলেছেন আফ্রিকাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ফ্রাঙ্কোইস সেনেসেল।
তিনি আরো বলেন, ‘ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য ইউক্রেন অত্যাবশ্যক স্বার্থের বিষয়, তবে সুদান নয়। এই কারণেই ইউক্রেন সব পশ্চিমা শক্তিধর দেশগুলোর মনোযোগ পায়, তবে মোটেই গুরুত্ব পায় না সুদান। একই যুক্তিটি ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।’
‘সুদানের প্রতি এমন অমনোযোগিতার অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে- বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘের প্রভাব কমে যাওয়া এবং অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপে পশ্চিমা দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান অনিচ্ছা,’ যোগ করেন তিনি।
সুদানকে বেশিরভাগই পশ্চিমা গণমাধ্যমে ‘ভুলে গেছে’। সেইসঙ্গে আফ্রিকা এবং এর জটিল এবং দীর্ঘমেয়াদী দ্বন্দ্বের প্রতি পশ্চিমা জনগোষ্ঠীর অনীহা এবং একঘেয়েমি ধরে গেছে।
পশ্চিমা দেশগুলোর নাগরিকরা তাদের সরকারকে সুদানে কাজ করার জন্য চাপ দিচ্ছে না। সেইসঙ্গে এই সংঘাতটি ‘বামপন্থী দলগুলোর এজেন্ডাতেও গুরুত্বহীন। একই ধরনের অবহেলা হয়েছিল ২০০৪ সালে দারফুর সংকটের সময়। তবে ইসরায়েলের নিরাপত্তার স্বার্থে গাজা পশ্চিমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ,’ তিনি যোগ করেন।
তিনি বিশ্বাস করেন, যখন সুদানের প্রসঙ্গ আসে তখন পশ্চিমা দেশগুলো সরাসরি হামলা চালানোর মতো দুঃসাহসিক হস্তক্ষেপ এড়িয়ে যান।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি