ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

ইসরায়েলি নির্যাতনের রোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনি বন্দিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:৪০, ২৬ জুলাই ২০২৪
ইসরায়েলি নির্যাতনের রোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনি বন্দিরা
ছবি: সংগৃহীত

অধিকৃত পশ্চিম তীরের ওফার কারাগার থেকে দুই নারী ও ছয় পুরুষকে মুক্তি দিয়েছে ইসরায়েল। মুক্তিপ্রাপ্ত আট ফিলিস্তিনি জানিয়েছেন, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী হেফাজতে তাদের ভয়ংকর নির্যাতন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) দুই নারী ও ছয় পুরুষ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেয়া হয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।

ইসরায়েলি বাহিনীর হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর এই আট ফিলিস্তিনি জানান, হেফাজতে থাকার সময় তাদের নির্যাতন ও হুমকি দেয়া হয়েছিল। বন্দিদের মধ্যে কিছু পুরুষ শারীরিক নির্যাতনের লক্ষণ দেখান, তারা যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন।

Advertisement

মধ্য গাজা উপত্যকার দেইর এল-বালাহ থেকে আল-জাজিরার হিন্দ খুদারি জানান, মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিরা ‘সম্পূর্ণভাবে ক্লান্ত’। তিনি বলেন, ‘এক নারী হাঁটতে পারছিলেন না। তাকে স্ট্রেচারে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।’

সদ্য মুক্তি পাওয়া এই বন্দিদের সবাইকে একই সময়ে গ্রেফতার করা হয়নি। এদের মধ্যে এক নারীকে তার সন্তানসহ অধিকৃত পশ্চিম তীর পরিদর্শনের পর গ্রেফতার করা হয়েছিল।

ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বলেছে, তারা কিসুফিম সামরিক চেকপয়েন্টের সামনে মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে মধ্য গাজার আল-আকসা হাসপাতালে স্থানান্তর করেছে।

খুদারি জানান, বন্দিরা সবাই তাদের নির্যাতন করার ও হুমকি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাদের ঠিকমতো ওষুধ ও কাপড়ও দেয়া হয়নি। এইসব বন্দিদের হামাস সদস্য ও হামাসের হাতে জিম্মি ইসরায়েলিদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।

এর আগে ইসরায়েল জুলাইয়ের শুরুতে আটক বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দিয়েছে। যার মধ্যে আল-শিফা হাসপাতালের পরিচালক মুহাম্মদ আবু সালমিয়া রয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, ফিলিস্তিনিরা কারাগারে প্রতিদিন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।

মুক্তির পর সালমিয়া এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বেশ কিছু বন্দি জিজ্ঞাসাবাদকেন্দ্রে মারা গেছে এবং খাবার ও ওষুধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’ তিনি বন্দিদের মারধরের কথাও জানিয়েছিলেন।

ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচার করপোরেশন জুলাই মাসে এক প্রতিবেদনে জানায়, দক্ষিণ ইসরায়েলে গত ৭ অক্টোবর হামাস নেতৃত্বাধীন হামলার পর প্রচুরসংখ্যক ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করা হচ্ছে বলে কারাগারগুলো ‘পূর্ণ’ ছিল।

ফিলিস্তিন প্রিজনার্স সোসাইটি এবং বন্দি ও সাবেক বন্দি কমিশন বলেছে, গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ৯ হাজার ৮০০ ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক চাপকে পাত্তা না দিয়ে গাজায় চারদিক থেকে লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা। তাদের অভিযানে পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে উপত্যকা।

এরমধ্যে খান ইউনিস শহরে আইডিএফের বিমান হামলা থেকে প্রাণে বাঁচতে এলাকা ছাড়তে চাইলে বাসিন্দাদের ওপরও নির্বিচারে স্নাইপার আক্রমণ চালানো হচ্ছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ফিলিস্তিনিদের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছুটতে হলেও গাজার সর্বত্রই বোমা হামলা চলছে।

নেতানিয়াহু সেনাদের হামলায় গাজা উপত্যকায় দেখা দিয়েছে মানবিক বিপর্যয়। এমনকি ত্রাণের মজুত ও সরবরাহ কমে যাওয়ায় খাবার, পানি, জ্বালানিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট চরমে। একেতো বাড়িঘর, হাসপাতাল, শরণার্থী শিবির কোথাও আর অবশিষ্ট কিছু নেই। অব্যাহত ইসরায়েলি হামলায় গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা একেবারে ধসে পড়ায় অনেক হাসপাতালের কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছে।

এর মধ্যেই কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করে সাংবাদিকদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির বরাতে আরো জানা যায়, ইসরায়েলে কাজ করা একটি এনজিও বলছে, গাজায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ৯১ জন সাংবাদিককে আটক করেছে তেল আবিব। অভিযোগ ছাড়াই অনেককে আটকের পর তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!