হামলার পর ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, ওই হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে চিকিৎসাধীন শিশুদের সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। শিশুদের কয়েকজনের হাতে স্যালাইনের পাইপ দেখা গেছে।
দিনের বেলা ইউক্রেনে রাশিয়ার এই ধরনের হামলা বেশ বিরল এবং বিমান হামলার পর বাবা-মায়েরা শিশুকে ধরে হাসপাতালের বাইরে রাস্তায় হাঁটছিলেন, তাদের অনেকে হতবাক হয়ে পড়েছিলেন এবং কাঁদছিলেন। হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কিয়েভের শত শত বাসিন্দা ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করতে সাহায্য করেন।
.png)
ওখমাতদিত নামে যে হাসপাতালে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করা হয় সেখানে ২০ জন শিশু চিকিৎসাধীন ছিল বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের কর্মকর্তারা। এটি ইউক্রেনের বড় শিশু হাসপাতালগুলোর মধ্যে একটি। সেখানে শিশুদের ক্যান্সার চিকিৎসার পাশাপাশি অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হয়।
হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, হামলায় হাসপাতালের একটি অংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। অপর একটি অংশে আগুন ধরে যায়। এতে হাসপাতালটির ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হামলার জন্য রাশিয়াকে দুষছে ইউক্রেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রাশিয়া। মস্কো দাবি করেছে, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরা অংশ নিজেদের ওই হাসপাতালে আঘাত হেনেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, কিয়েভ, নিপ্র, ক্রিভি রিহ, স্লোভিয়ানস্ক ও ক্রামাত্রস্কসহ বিভিন্ন শহরে ৪০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে তিনি পশ্চিমা-মিত্র দেশগুলোকে আরো শক্তিশালী পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। টেলিগ্রামে তিনি বলেন, রুশ হামলার জবাব দিতে হবে। উদ্বিগ্ন হলেই সন্ত্রাস বন্ধ হয়ে যাবে না। সমবেদনা কোনো অস্ত্র না।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো বলেন, হাসপাতালের হামলার ঘটনায় একজন চিকিৎসকসহ দুজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তবে উদ্ধারকারীরা শঙ্কা করছেন, ধ্বংস স্তূপের নিচে আরো অনেক মানুষ চাপা পড়ে থাকতে পারেন।
কিয়েভের মেয়র বলেছেন, বিশ্ববাসী দেখুন, তারা (রাশিয়া) কীভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে কিয়েভের নাগরিকদের হত্যা করছে।