ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

যে কারণে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েও হামাসকে পরাজিত করা সম্ভব হচ্ছে না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৫৪, ২৫ জুন ২০২৪
যে কারণে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েও হামাসকে পরাজিত করা সম্ভব হচ্ছে না
সম্প্রতি হামাসের সদস্য হতে ফিলিস্তিনি তরুণদের আগ্রহ বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

গত বছর ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন হামলার শিকার হওয়ার পর ফিলিস্তিনিদের সশস্ত্র এই সংগঠনটিকে ‘গুঁড়িয়ে দেওয়ার এবং নিশ্চিহ্ন করে ফেলার’ প্রতিজ্ঞা নিয়ে গাজার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ইসরায়েল। যাতে হামাস আর কোনো দিন দেশটির জন্য হুমকি হয়ে উঠতে না পারে।

গাজায় ইসরায়েলের সেই অভিযানের আট মাস পেরিয়ে গেছে। এ আট মাসে ৩৭ হাজারের বেশি বেসামরিক ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের একটি বড় অংশ নারী ও শিশু। গাজার বেশিরভাগ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। গাজার প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের সবাই বাস্তুচ্যুত, অনাহারে দিন কাটাচ্ছে এবং ছোট্ট এই ভূখণ্ডটিতে দুর্ভিক্ষ আসন্ন। কিন্তু এতসব সত্ত্বেও হামাস দুর্বল হয়নি। ফরেন অ্যাফেয়ার্স ম্যাগাজিন এক প্রতিবেদনে বলেছে, গাজার ওপর ইসরায়েলের নির্বিচার বোমাবর্ষণ সত্ত্বেও হামাসের শক্তি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গাজা যুদ্ধের আট মাস পেরিয়ে গেলেও ইসরায়েল এ যুদ্ধে তাদের লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছে কিনা তা এখনো অস্পষ্ট। ছবি: রয়টার্স

Advertisement

ফরেন অ্যাফেয়ার্সের প্রতিবেদনে হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ সম্পর্কে একটি বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বহু ফিলিস্তিনির শাহাদাত সত্ত্বেও গাজার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ওপর বিশেষ করে যেসব এলাকায় বেসামরিক নাগরিকরা আশ্রয় নিয়েছেন সেসব এলাকার ওপর হামাসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এছাড়া, এই সংগঠনের প্রতি গাজাবাসীর অভূতপূর্ব সমর্থন রয়েছে। আর এই সমর্থনের কারণে, গাজার যেকোনো অঞ্চল থেকে ইসরায়েলি সেনারা চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা হামাসের নিয়ন্ত্রণে চলে আসছে। খোদ ইসরায়েলের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, উত্তর গাজায় হামাসের উপস্থিতি বেড়েছে।

শক্তিমত্তার উৎস

সাধারণত একটি দেশের সামরিক শক্তি বলতে যা বোঝায়, হামাসের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। হামাসের কোনো রাষ্ট্রীয় কাঠামো নেই বরং এটি সম্পূর্ণ বেসরকারি একটি সংগঠন। হামাসসহ এ ধরনের অন্যান্য বেসরকারি প্রতিরোধ সংগঠনের প্রধান শক্তি হচ্ছে জনগণের মধ্যে তাদের সমর্থন ও যোদ্ধা ভর্তি করার ক্ষমতা। এ ধরনের সংগঠনের প্রধান শক্তিই হচ্ছে তাদের যোদ্ধার সংখ্যা। আর এই যোদ্ধা ভর্তি করার বিষয়টি শুধুমাত্র তাদের জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভরশীল। গাজাবাসীর অন্তরে হামাস স্থান করে নিতে পেরেছে বলে তাদের যোদ্ধার অভাব নেই এবং এ কারণে হামাসকে পরাজিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

জনমত জরিপের ফলাফল

গত প্রায় নয় মাস ধরে গাজার ওপর ইহুদিবাদী ইসরায়েলের ভয়াবহ বোমাবর্ষণের কারণে গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলবিরোধী যে অভিযান চালিয়েছিল তার প্রতি গাজাবাসীর সমর্থন কমেনি বরং বৃদ্ধি পেয়েছে।  গত মার্চে পরিচালিত জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৭৩% ফিলিস্তিনি মনে করেন, গাজাবাসীর সামরিক বাহিনী হিসেবে হামাস ৭ অক্টোবরের অভিযান চালিয়ে উচিত কাজটিই করেছে। ফিলিস্তিনিদের এই বিশ্বাসের ফলশ্রুতিতে হামাস নতুন প্রজন্মের তরুণদের আরো বেশি নিজেদের দলে ভেড়াতে সক্ষম হয়েছে।

ইসরায়েল-গাজা সীমান্তে সাঁয়োয়া যানে ইসরায়েলের সেনা। ছবি: ডয়চে ভেলে

হামাসকে পরাজিত করার ক্ষেত্রে সামরিক উপায়কাজ করছে না

নয় মাসের ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের পর এখন এটা উপলব্ধি করার সময় এসেছে যে, হামাসকে শুধুমাত্র সামরিক উপায়ে পরাজিত করা সম্ভব নয়। এটি প্রকৃতপক্ষে তার বর্তমান সেনা সংখ্যার চেয়ে অনেক বড় একটি সংগঠন এবং এটি কেবল একটি মতাদর্শ নয়। হামাস হচ্ছে একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলন যাকে কোনো অবস্থায় নির্মূল করা সম্ভব নয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!