রায় ঘোষণার পর যেসব বড় দাতা ট্রাম্পকে জোর সমর্থন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন ধনকুবের ক্যাসিনো ব্যবসায়ী মিরিয়াম অ্যাডেলসন ও হটলিয়ার রবার্ট বিগলো। তাদের প্রতিশ্রুত আর্থিক অনুদান গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে ট্রাম্পের পক্ষে ব্যাপকভাবে বিজ্ঞাপন প্রচার, দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনা ও ফোন ব্যাংকিং সেবা গতিশীল করবে। এছাড়া গতকালের রায় ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের কিছু দাতাকেও তার পক্ষে অনুদান নিয়ে এগিয়ে আসতে প্ররোচিত করেছে বলে জানা গেছে।
রবার্ট বিগলো সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একনিষ্ঠ সমর্থকদের একজন। ট্রাম্পকে সমর্থন দেওয়া একটি গোষ্ঠীকে বিগলো এরই মধ্যে ৯০ লাখ ডলারের অনুদান দিয়েছেন। বিগলো বলেছেন, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার চলমান প্রক্রিয়া ‘মর্যাদাহানিকর’।
.png)
রয়টার্সকে বিগলো বলেছেন, আমি প্রেসিডেন্ট (সাবেক) ট্রাম্পের কাছে তাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আরো ৫০ লাখ ডলার পাঠাচ্ছি।
জানা গেছে, রক্ষণশীল ভাবধারার অনেক দাতা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে করা এ মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে দেখে থাকেন। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রার্থী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে রিপাবলিকান পার্টি থেকে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ট্রাম্প।
তিনি দাবি করছেন, নির্বাচন সামনে রেখে ডেমোক্র্যাট শিবির তাকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। আর তার এ কথার সঙ্গে সুর মেলাচ্ছেন ওই দাতারা। তবে বাদীপক্ষের কৌঁসুলিরা তার এ দাবিকে অসত্য বলে নাকচ করে দিয়েছেন।
জ্যামাইকায় ট্রাম্পের সাবেক প্রতিনিধি ডন টাপিয়া বলেছেন, তিনি একটি ছোট পারিবারিক নেটওয়ার্ক ও বন্ধুরা নির্বাচনে ট্রাম্পকে সহায়তা করতে আড়াই লাখ ডলার দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। গতকাল রায় ঘোষণার পর টাপিয়া রয়টার্সকে বলেন, তাদের লক্ষ্য, ট্রাম্প–সমর্থক গ্রুপ এমএজিএ ইনকরপোরেটকে ১০ লাখ ডলারের বেশি দেওয়া। তার জন্য তারা সবকিছু করবেন।
রায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেট টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে সিলিকন ভ্যালির বিনিয়োগকারী শন ম্যাগুয়ার ট্রাম্পকে সহায়তা করতে তিন লাখ ডলার অনুদান দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ট্রাম্পকে এর আগে অনুদান দেননি বলে জানান তিনি।
আদালতের ওই রায়ের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সাবেক প্রেসিডেন্ট ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলেন। আগামী ১১ জুলাই এ মামলায় ট্রাম্পের সাজা ঘোষণা করা হবে। তাতে সাবেক এ প্রেসিডেন্টের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে আইনজ্ঞরা বলছেন, তাকে জরিমানা করার সম্ভাবনাই বেশি।