এক বিবৃতিতে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস জানিয়েছে, এসকিউ-৩২১ নামে তাদের ওই ফ্লাইটে ২১১ জন যাত্রী ও ১৮ জন ক্রু সদস্য ছিলেন।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, উড়োজাহাজটি যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন থেকে সিঙ্গাপুর যাচ্ছিল। পথ পাল্টে সেটিকে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে জরুরি অবতরণ করানো হয়। মঙ্গলবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে উড়োজাহাজটি ব্যাংককে অবতরণ করে। সেটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর মডেলের।
.png)
সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স বলেছে, তাদের ফ্লাইটটি সোমবার লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে এবং সিঙ্গাপুরের দিকে যাচ্ছিল। পথে ‘প্রচণ্ড গোলযোগের সম্মুখীন’ হয়। যাত্রীরা নাস্তা করছিলেন এ সময় উড়োজাহাজটি হঠাৎ উচ্চতা হারায় ( যে উচ্চতায় উড়ছিল আকস্মিক তার থেকে নিচে নেমে আসে)। এরপর শুরু হয় আসল গোলযোগ।
ফ্লাইটের গতিবিধি পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার টোয়েন্টিফোর বলছে, লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের প্রায় ১১ ঘণ্টা পর বিমানটি আন্দামান সাগর অতিক্রম করে থাইল্যান্ডের আকাশসীমায় পৌঁছায়। থাই আকাশসীমায় থাকাকালীন মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে প্রায় ৩৭ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে তীব্রগতিতে ৩১ হাজার ফুটে নেমে আসে।
পাইলটরা ব্যাংককের সুবর্ণভূমি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের অনুরোধ জানান। স্থানীয় সময় বিকেল ৩.৪৫ মিনিটে এটি অবতরণ করে। একজন যাত্রী বলেছেন, গোলযোগের সময় কিছু যাত্রীর মাথা সিটের ওপরের লাইটের সঙ্গে প্রচণ্ডভাবে ধাক্কা খায়। আরেকজন যাত্রী বিবিসি-৫ লাইভকে বলেছেন, ‘সম্পূর্ণ স্বাভাবিক’ একটি ভ্রমণে হঠাৎ ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছেন সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। এক ভিডিও বার্তায় সিইও গোহ চুন ফোং যাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, খুবই দুঃখিত, এসকিউ-৩২১ ফ্লাইটে যারা ভয়াবহ এ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন।
উড়োজাহাজের ভেতরের প্রকাশ হওয়া ছবিতে দেখা গেছে, কেবিন প্যানেলের গ্যাস মাস্ক খুলে পড়েছে।
এদিকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি ৭৩ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক জিওফ কিচেন। হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন।