জানা গেছে, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর দেওয়া যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব গত সোমবার সন্ধ্যার পর মেনে নেয়ার ঘোষণা দেয় ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগঠন হামাস। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই গাজার সর্বদক্ষিণের রাফার পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। মঙ্গলবার রাফা ক্রসিংয়ের ফিলিস্তিনি অংশে অবস্থান নেয় ইসরায়েলি ট্যাংক।
ইসরায়েলি হামলার কারণে গাজার উত্তর ও মধ্যাঞ্চল থেকে পালিয়ে ১০ লাখের মতো ফিলিস্তিনি রাফায় আশ্রয় নেন। সেখানে তাঁবু টানিয়ে গাদাগাদি করে অবস্থান করছেন তারা। রাফার পূর্বাঞ্চল থেকে এক লাখ ফিলিস্তিনিকে খান ইউনিসে তাঁবুতে আশ্রয় নেয়ার নির্দেশ দেওয়ার এক দিন পরই অভিযান শুরু করে ইসরায়েল।
.png)
রাতভর ইসরায়েলের বিমান হামলায় কেঁপে ওঠে রাফা। কুয়েতি হাসপাতাল জানিয়েছে যে হামলায় ২৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আরো ছয়জন নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে নাজ্জার হাসপাতাল।
পরে কেরেম শালম এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের ওপর রকেট হামলা চালানোর দাবি করে হামাসের সামরিক শাখা কাসাম ব্রিগেড। দুই দিন আগে ওই এলাকায় হামলায় চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হন। ওই হামলারও দায় স্বীকার করে হামাস।
রাফা থেকেই ওই হামলা চালানো হয়েছিল বলে জানায় ইসরায়েলি বাহিনী। পরে নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে কেরেম শালম ক্রসিং বন্ধ করে দেয় ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে কয়েক দিন আগে ক্রসিংটি চালু করা হয়েছিল।
এদিকে রাফায় ইসরায়েলি বাহিনীর বড় আকারে শুরু করা অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটির পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের পরিচালক হানান বালখি বলেন, রাফায় ইসরায়েলি বাহিনীর স্থল অভিযান ৬ লাখ শিশুসহ ১৫ লাখ মানুষের জীবন মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছে। এ অভিযান এখনই বন্ধ করতে হবে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ২৪ ঘণ্টায় আরো ৫৪ জন নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গাজায় ৩৪ হাজার ৭৮৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহত মানুষের ৭০ শতাংশই শিশু ও নারী।