জাতিসংঘ আগেই সতর্ক করে বলেছিল, গাজার আনুমানিক ১.১ মিলিয়ন মানুষ (অর্ধেক জনসংখ্যা) খাদ্যসংকটে ভুগছে। গাজায় ত্রাণ প্রবেশে ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞা ও চলমান যুদ্ধের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ডাব্লিউসিকে তাদের কার্যক্রম স্থগিত করায় সমুদ্রপথে সাইপ্রাস থেকে আসা খাদ্য সহায়তার সরবরাহের কাজও বন্ধ হয়ে গেছে।
ডব্লিউসিকে গাজার উত্তরে সাহায্যের গতি বাড়াতে এবং দুর্ভিক্ষ এড়াতে গত মাসে থেকে খাদ্য সহায়তার সরবরাহে সাহায্য করছিল। নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল সতর্ক করে বলেছে, ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা পুরো সাহায্যব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।
.png)
জাতিসংঘের প্রাক্তন মানবিক প্রধান জ্যান এগল্যান্ড বলেছেন, গাজার জনগণের জন্য ডাব্লিউসিকে-এর কার্যক্রম স্থগিত করার অর্থ ‘আরো দুর্ভিক্ষ, আরো মৃত শিশু, আরো মহামারী রোগ’ কারণ মানুষ প্রচণ্ড অপুষ্টিতে ভুগছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অক্টোবর থেকে অপুষ্টির কারণে অন্তত ২৭ শিশু মারা গেছে।
ডাব্লিউসিকে-এর প্রতিষ্ঠাতা শেফ জোসে আন্দ্রেস বুধবার রয়টার্স নিউজ এজেন্সিকে বলেছেন, আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং চিন্তা করছি কিভাবে আমরা কাজ চালিয়ে যেতে পারি।
হামলার আগে ডাব্লিউসিকে গাজায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল। যেখানে ৪০০ ফিলিস্তিনি কর্মী এবং তিন হাজার মানুষ ৬৮টি কমিউনিটি রান্নাঘর পরিচালনা এবং সমগ্র অঞ্চলজুড়ে তা বিতরণ ব্যবস্থায় পরোক্ষভাবে কাজ করেছে। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত গাজায় পৌঁছে যাওয়া আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে এক লাখ ৯৩ হাজার টন সহায়তার ১২ শতাংশ ডাব্লিউসিকে প্রদান করেছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন দাতব্য সংস্থা ‘আনেরা’ ডাব্লিউসিকে-এর সহযোগিতায় দিনে এক লাখ ৫০ হাজার খাবার সরবরাহ করছিল।
তারা বলেছে, কাজ বন্ধ করে দেওয়ার প্রভাব ফিলিস্তিনিদের ওপর গিয়ে পড়বে। সংস্থাটিরও লজিস্টিক কো-অর্ডিনেটর এবং তার ছেলে মার্চে দেইর আল-বালাহে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছিল। যদিও ইসরায়েলি বাহিনীকে তাদের অবস্থান সম্পর্কে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কেন ওই হামলা চালানো হয়েছিল, তার ব্যাখ্যা চাইলেও ইসরায়েলিরা কোনো উত্তর দেয়নি।