বায়েক ওন-সুন নামে ওই ব্যক্তিকে চলতি বছরের শুরুতে রাশিয়ার ভ্লাদিভোস্টক শহর থেকে আটক করা হয়। রাষ্ট্রীয় সংস্থা তাস জানিয়েছে- তিনি এখন মস্কোর একটি জেলে রয়েছেন। সোমবার একটি আদালত তার আটকের মেয়াদ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর রায় দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে- সাম্প্রতিক দশকে রাশিয়ায় আটক হওয়া প্রথম দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক তিনি। খবর-বিবিসি
দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছে, তারা বায়েক ওন-সুনকে কনস্যুলার সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তার বিপক্ষে মামলার বিষয়ে খুব কম তথ্যই জানা গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে- এ ব্যাপারে মামলার বিস্তারিত বিবরণ তদন্ত করা হচ্ছে। এখনই কিছু মন্তব্য করা কঠিন।
.png)
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বায়েক ওনের বিরুদ্ধে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তার তথ্য সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার মিডিয়া জানিয়েছে, তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি গত মাসে সিউলকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে রাশিয়ান কর্তৃপক্ষ।
দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সূত্র জানিয়েছে, বায়েক চীন থেকে ভ্লাদিভোস্টক শহরে যাওয়ার পর জানুয়ারিতে রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস তাকে গ্রেফতার করে। তিনি একজন ধর্মীয় কর্মী, সঙ্গে থাকা তার স্ত্রীকেও আটক করা হয়েছিল। তবে পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় ফিরে এসেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুই বছর আগে ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিদেশি নাগরিকদের গ্রেফতারের অভিযোগ রয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। বায়েকের গ্রেফতার যার সর্বশেষ ঘটনা। মস্কোর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দর কষাকষির হিসাব এবং বন্দী বিনিময়ের জন্য অন্যান্য দেশের নাগরিকদের গ্রেফতারের অভিযোগ রয়েছে দেশটির বিরুদ্ধে।
দক্ষিণ কোরিয়া তার পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের নিন্দা করে আসছে এবং মস্কোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে। একই সময়ে রাশিয়াও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ভ্লাদিমির পুতিন ও কিম জং উন- দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে গত বছর এক সফরে দেখা হয়েছিল।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ওই সাক্ষাতে দুই দেশের মধ্যে সামরিক প্রযুক্তি চুক্তির আলোচনা হয়েছে। গত বছর ভ্লাদিভোস্টকে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার কর্মকর্তাদের মধ্যে বেশ কয়েকটি বৈঠকও হয়েছিল।