ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে যা বললেন বাইডেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭:৫৮, ৮ মার্চ ২০২৪
স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে যা বললেন বাইডেন
জো বাইডেন - ফাইল ছবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তার বর্তমান মেয়াদে তৃতীয় বারের মতো স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ দিয়েছেন। নভেম্বরের নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে দেওয়া এই বক্তব্যে বাইডেন অর্থনীতিতে তার প্রশাসনের সাফল্য তুলে ধরেন এবং নিজেকে তার পূর্বসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে এগিয়ে রাখার জন্য নানা যুক্তি উপস্থাপন করেন।

বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে জাতির উদ্দেশে এই ভাষণ দেন বাইডেন। এ সময় মার্কিন ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেনও তার সঙ্গে ছিলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের বার্ষিক এই ভাষণে অভিবাসন, গর্ভপাত, গণতন্ত্র, অর্থনীতি ও গাজা প্রসঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

Advertisement

এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা ভাষণে ১৩ বার ট্রাম্পের নাম নিয়েছেন বাইডেন। আর তাকে সম্বোধন করেছেন তার পূর্বসূরি হিসেবে। 

ন্যাটোর চাঁদা দিতে ব্যর্থ সদস্য দেশে হামলা চালাতে রাশিয়াকে উৎসাহিত করায়, ট্রাম্পের সমালোচনা করেন বাইডেন। ট্রাম্পের এই অবস্থানকে বিপজ্জনক ও অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেন তিনি। ভাষণে ২০১২ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গার প্রসঙ্গ নিয়েও ট্রাম্পের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন বাইডেন।

অভিবাসন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বাইডেন বলেন, সিনেটে দ্বিদলীয় অভিবাসন আইনকে সমর্থন করতে রিপাবলিকানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নির্বাচনি লাভের জন্য ট্রাম্প বিলের বিরোধিতা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

ভাষণে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মেয়াদ পূরণের আগে এই সময়ে বাইডেন প্রশাসনের কৃতিত্বগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেন তিনি। বাইডেন বলেন, তার পূর্বসূরি যে অর্থনীতি রেখে গিয়েছিলেন, সেটা ছিল প্রায় ডুবতে বসা অর্থনীতি। সেখান থেকে বর্তমান মার্কিন অর্থনীতিতে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছেন তিনি। এখনকার মার্কিন অর্থনীতি বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছে ঈর্ষণীয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইউক্রেনে সামরিক সাহায্যের আহ্বান জানিয়ে ভাষণ শুরু করেছিলেন বাইডেন। বক্তব্য শেষ করেছেন গাজা যুদ্ধ ও সেখানকার মানবিক ও ত্রাণ সংকট সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ দিয়ে। গাজায় একটি সফল যুদ্ধবিরতিতে কাজ করছেন উল্লেখ করে বাইডেন বলেন, গাজা যুদ্ধ ডেমোক্র্যাটদের বিভক্ত করেছে। গাজায় হতাহতের ঘটনাকে হৃদয় বিদারক হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, অসহায় ও ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য ত্রাণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে অবিলম্বে সেখানে অস্থায়ী বন্দর নির্মাণ করা হবে। 

ভাষণের জন্য, হোয়াইট হাউস থেকে মার্কিন কংগ্রেসে যাওয়ার পথে বাইডেনকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউতে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা ও ব্যানার দেখা যায়। ব্যানারে লেখা ছিল বাইডেনের গণহত্যার শাসনামল। বিক্ষোভকারীদের এড়াতে এ সময় বাইডেনের গাড়িবহর অন্য পথ দিয়ে যায়।

মার্কিন ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট হিসেবে পরিচিত বাইডেনের মানসিক তীক্ষ্ণতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তারপরও তিনি আগামী নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। এদিকে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী ৭৭ বছর বয়সী রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পও নানা কারণেই বিতর্কিত।

সূত্র: বিবিসি

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!