নতুন এই প্রস্তাব অনুসারে, গাজায় ৪০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হবে এবং এই সময়ে হামাসের হাতে জিম্মি ও ইসরায়েলি কারাগারে বন্দী ফিলিস্তিনি বন্দীদের বিনিময় করা হবে। নতুন প্রস্তাব অনুসারে, হামাসের হাতে আটক একজন ইসরায়েলি জিম্মির বিনিময়ে ১০ জন করে ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়া হবে।
আলোচনার সঙ্গে জড়িত একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে জানিয়েছে, এই ৪০ দিনে ইসরায়েল বা হামাসের তরফ থেকে কোনো ধরনে সামরিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হবে না। এই সময়ে হামাসের হাতে থাকা ১৯ বছরের কম ও ৫০ বছরের বেশি বয়সী এবং অসুস্থ ৪০ জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হবে। বিপরীতে ইসরায়েল মুক্তি দেবে ৪০০ ফিলিস্তিনিকে। একই সঙ্গে ইসরায়েল, এই ৪০০ জনকে আর কখনোই গ্রেপ্তার করবে না এই মর্মে নিশ্চয়তা দেবে।
.png)
খসড়া প্রস্তাব অনুসারে, এই ৪০ দিনের মধ্যে গাজার হাসপাতাল ও বেকারিগুলোকে মেরামত করে পুনরায় চালু করা হবে। প্রতিদিন অঞ্চলটিতে ৫০০ ট্রাক করে ত্রাণ সামগ্রী প্রবেশ করবে এবং প্রতিটি বাস্তুহারা পরিবারকে এক বা একাধিক তাঁবু ও ক্যারাভান সরবরাহ করা হবে।
বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজায় যুদ্ধবিরতির বিষয়টি ব্যাপক গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বের তরফ থেকে হামাসের হাতে জিম্মি ইসরায়েলি ও বিদেশিদের মুক্তির বিষয়ে চাপ ক্রমেই বাড়ছে। এ ছাড়া, রাফাহে ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধের লক্ষ্যে অতি দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার চেষ্টা করছেন মধ্যস্থতাকারীরা।
এদিকে, গাজা ও পশ্চিম তীরে এমন ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেও অঞ্চল দুটিতে ইসরায়েলি হামলা ও অভিযান থেমে নেই। আন্তর্জাতিক সব আহ্বান উপেক্ষা করে ইসরায়েলি সেনারা ভূখণ্ড দুটিতে মারণ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
এই অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধে এবং হামাসের হাতে থাকা ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির লক্ষ্যে যুদ্ধবিরতি খুব কাছাকাছি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি আশা করি, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকের মধ্যেই এটি কার্যকর হবে।’ উল্লেখ্য, পশ্চিমা বিশ্বে সাধারণত সপ্তাহান্তে বলতে শনি-রোববারকে বোঝানো হয়।