ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

২৯ বছর কক্ষপথ ভ্রমণের পর পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়লো ইউরোপীয় স্যাটেলাইট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭:০৫, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
২৯ বছর কক্ষপথ ভ্রমণের পর পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়লো ইউরোপীয় স্যাটেলাইট
ছবি: প্রতীকী

মহাকাশে প্রায় তিন দশক ধরে পৃথিবীর কক্ষপথ ভ্রমণের পর বায়ুমণ্ডলে ঢুকে ভেঙে গেছে একটি কৃত্রিম উপগ্রহ। এর কয়েকটি টুকরো উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে গিয়ে পড়েছে। আর বেশিরভাগ অংশ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ইউরোপীয় কৃত্রিম উপগ্রহ ইআরএস-২ ১৯৯৫ সালে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। তার তিন বছর কাজ করার কথা ছিল। কিন্তু সে ১৩ বছর আগে কাজ করা বন্ধ করে দেয়। বুধবার সেই উপগ্রহটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে বলে জানায় ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি (ইএসএ)।

Advertisement

২০১১ সালের পর থেকে এই উপগ্রহটি কক্ষপথ থেকে সমানে সরে আসছিল। বুধবার এটি পৃথিবীর ৮০ কিলোমিটার উপরে এসে পৌঁছায়। তারপর এটি পৃথিবীর বয়ুমণ্ডলে ঢুকে পড়ে। এরপরই তা টুকরা টুকরা হয়ে যায়। এই কৃত্রিম উপগ্রহটির ওজন ছিল আড়াই টন।

ইএসএ জানিয়েছে, এই কৃত্রিম উপগ্রহকে তারা পরিকল্পনা করেই পৃথিবার বায়ুমণ্ডলে নিয়ে এসেছে। কারণ, কক্ষপথে থাকলে তা অন্য কৃত্রিম উপগ্রহের ও আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের বিপদের কারণ হতে পারত।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে এভাবে ঢুকলে অধিকাংশ কৃত্রিম উপগ্রহই পুড়ে ছাই হয়ে য়ায়। কিছু টুকরা সমুদ্রে গিয়ে পড়ে। ইএসএর বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই উপগ্রহ-বর্জ্য থেকে মানুষের ক্ষতি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাছাড়া পৃথিবার বায়ুমণ্ডলে ঢুকে তা টুকরো টুকরো হয়ে যায়, অধিকাংশ টুকরোই পুড়ে যায়।

ইএসএ জানিয়েছে, কারো মাথায় একটা টুকরো পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম (একশ কোটির মধ্যে এক ভাগ)। প্রথমে মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল ইআরএস-১। তার চার বছর পর ১৯৯৫ সালে পাঠানো হয় ইআরএস-২। এটা ছিল সেই সময়ে ইউরোপের সবচেয়ে অত্যাধুনিক রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট।

১৬ বছর ধরে বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তন, মেরুর বরফ গলে যাওয়া, সমুদ্রে জলস্তর বেড়ে যাওয়া, সমুদ্র গরম হয়ে ওঠার মতো বিষয়ে প্রচুর তথ্য পাঠিয়েছে এই কৃত্রিম উপগ্রহ। ওই উপগ্রহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের উপর নজর রেখেছে। বিশ্বের সুদূর প্রান্তে বন্যা বা ভূমিকম্পের বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!