বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজ্যের স্থানীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠী কারেন্নি আর্মির (কেএ) বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতী।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত রোববার শ্যাডাও শহরে সামরিক জান্তা বাহিনীর ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়ন ২৪৯ এর সেনারা প্রবেশ করে। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তিন নারী, তিন শিশু ও এক পুরুষকে গ্রেফতার করা হয়।
.png)
কেএ বলেছে, শ্যাডাওয়ে গ্রেফতার হওয়ার পরদিনই পুরুষ বন্দি পালিয়ে যান। কিন্তু একজন গর্ভবতী ও দুই প্রতিবন্ধী নারীকে হত্যা করা হয়। এ ছাড়াও ৩, ৫ ও ৭ বছর বয়সী তিন শিশুকেও হত্যা করেছে জান্তা সেনারা।
পরে ওই এলাকায় সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে কেএ ও কারেন্নি ন্যাশনালিজিট ডিফেন্স ফোর্সের যৌথ অভিযানের সময় নিহতদের মরদেহ পাওয়া যায়।
এক বিবৃতিতে কেএ বলেছে, জান্তার হত্যাকাণ্ডের শিকার নারীরা শ্যাডাও শহরের বাসিন্দা। ডাও সোয়ে মেল, ডাও সোয়ে মেল, ডাও ল্য মেল এবং ডা মে মোহ নামের এই নারীদের বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।
স্থানীয় গণমাধ্যম কান্তরাবতি টাইমস বলেছে, তাদের একজন প্রতিবেদক শহরটিতে মরদেহের স্তূপের মাঝে এক শিশুকে শ্বাস নিতে দেখেছেন। কিন্তু উদ্ধারকারীরা শিশুটিকে বাঁচাতে পারেননি। শিশুটির পিঠে বুলেটের বড় ক্ষত ছিল। পরে শিশুটি মারা যায়।
কারেন্নি আর্মির অ্যাডজুট্যান্ট-জেনারেল কর্নেল ফোন নাইং বলেন, জান্তা সেনারা যে ছয়জনকে হত্যা করেছে তাদের শ্যাডাও শহরে জোরপূর্বক পাঠিয়েছিল প্রশাসন। মিয়ানমার জান্তা বাহিনী ও কারেন্নি প্রতিরোধ বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের পর তাদের শহরটিতে পাঠানো হয়।
প্রতিরোধ বাহিনী নিহত বেসামরিক লোকজনকে কবর দিয়েছে। একই সঙ্গে তাদের হত্যাকারী জান্তা সেনাদের খুঁজছে কারেন্নি আর্মি খুঁজছে বলে জানিয়েছেন কর্নেল ফোন নাইং। তিনি বলেছেন, শ্যাডাওয়ে সংঘর্ষের সময় জান্তা সেনাদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করেছে কারেন্নি যোদ্ধারা।
মিয়ানমারের স্থানীয় মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন অ্যাসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জানুয়ারি থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জান্তার বিমান হামলায় অন্তত ২০ শিশু নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে কারেন্নি রাজ্যের ডেমোসো শহরের একটি স্কুলে জান্তার বিমান হামলায় নিহত চার শিশুও রয়েছে।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর থেকে জান্তা সেনারা দেশটিতে অন্তত ৫৭৮ শিশুকে হত্যা করেছে। একই সময়ে জান্তার হাতে নিহত নারীর সংখ্যা ৭৫৪ জনে পৌঁছেছে।