সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতির প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) একটি সামরিক হেলিকপ্টার গুলি করে ভূপাতিত করেছে। আরাকান আর্মি ভূপাতিত হেলিকপ্টারের একাধিক ছবিও প্রকাশ করেছে।
আরাকান আর্মির মুখপাত্র খিয়াং থুখা ইরাবতিকে বলেছেন, ‘পালেতওয়া শহরে তীব্র সংঘর্ষের সময় আমরা একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছি। আমরা গুলি করার পর গত ১৩ জানুয়ারি হেলিকপ্টারটি পাই নামক পাহাড়ের কাছে ঘন বনের মধ্যে গিয়ে বিধ্বস্ত হয়। এই এলাকার পাশে কাঙ্খা নামক পাহাড়ে জান্তাবাহিনীর একটি ঘাঁটিও ছিল। গতকাল বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) আমরা ঘাঁটিটি দখলের পর এই হেলিকপ্টারটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেয়েছি।’
.png)
শহরটিতে বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও জান্তাবাহিনীর মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। মাঝে বিদ্রোহীরা দাবি করেছিল, তারা শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
প্রসঙ্গত, এই দুটি পাহাড়ই বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা বান্দরবান সীমান্তে অবস্থিত। গত ১৩ জানুয়ারি আরাকান আর্মি চিন রাজ্যের এই শহরটি দখল করে নেয়। তার আগে টানা দুই মাস ধরে জান্তাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করে আরাকান আর্মি।
এর আগে, গত বছরের অক্টোবরে মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ), তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) এবং আরাকান আর্মি (এএ) সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে থ্রি ব্রাদার্স অ্যালায়েন্স। গত অক্টোবরে শান রাজ্যে এই জোট জান্তাবিরোধী ‘অপারেশন-১০২৭’ শুরু করে। এই অপারেশনে বেশ সাফল্যও লাভ করে জোট। পরে নভেম্বরের মাঝামাঝি সশস্ত্র জোট বাহিনী অভিযান শুরু করে চিন রাজ্যে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে আরাকান আর্মি কিছু ছবি পোস্ট করেছে। এতে ত্রিপক্ষীয় ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের সদস্যদেরকে বিধ্বস্ত একটি হেলিকপ্টারের পাশে দাঁড়ানো অবস্থায় দেখা গেছে। এতে প্রমাণিত হয় যে, আরাকান আর্মির পাশাপাশি জোটের অন্য দুটি গ্রুপও আরাকান রাজ্যে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। আরাকান আর্মি এই হেলিকপ্টারকে ভূপাতিত করার দাবি করলেও, কিভাবে তা করা হয়েছে, এক্ষেত্রে কি ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা প্রকাশ করেনি এই গ্রুপটি।
জানুয়ারিতে সশস্ত্র কারেন বিদ্রোহী গোষ্ঠী সেনাবাহিনীর আরেকটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত করে। তারা কারেন রাজ্যের মিত্র প্রতিরোধ বাহিনীর সঙ্গে একত্রে কাজ করছে। ওই হামলায় নিহত হন একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং হেলিকপ্টারে থাকা চারজন সেনা কর্মকর্তা। এ নিয়ে এক মাসে শাসকগোষ্ঠী বিরোধী প্রতিরোধ যোদ্ধাদের হাতে সামরিক জান্তা তিনটি এয়ারক্রাফট হারিয়েছে। এ পর্যন্ত প্রতিরোধ যোদ্ধারা সারাদেশে তিনটি যুদ্ধবিমান ও ৬টি সামরিক হেলিকপ্টার গুলি করে ভূপাতিত করেছে।