ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

লোহিত সাগরে হুথিদের হামলা, ২ মাসে ইসরায়েলের ক্ষতি ৩ বিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:১৪, ৩১ জানুয়ারি ২০২৪
লোহিত সাগরে হুথিদের হামলা, ২ মাসে ইসরায়েলের ক্ষতি ৩ বিলিয়ন ডলার
ছবি: সংগৃহীত

হামাস-ইসরায়েল সংঘাতের পর হামাসের সমর্থনে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক রুটে বিভিন্ন পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছে হুথিরা। লোহিত সাগরে হুথিদের এ হামলা কারণে ইসরায়েলের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। জানা গেছে, এশিয়া, আফ্রিকা এবং ইউরোপকে সংযোগকারী এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথকে হুথিরা ঘেরাও করে রাখার ফলে ইসরায়েলে গত দুই মাসে তিন বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে।

গত বছরের নভেম্বরে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কিত গ্যালাক্সি লিডার জাহাজে হামলার পর লোহিত সাগরে এখন পর্যন্ত ২৬টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে হুথিরা। উত্তেজনার কারণে লোহিত সাগর দিয়ে ৪০ শতাংশের বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কমে গেছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থাকে ব্যাহত করেছে। বিশ্বের বেশ কিছু বৃহৎ জাহাজ পরিচালনা প্রতিষ্ঠান এখন এই জলপথের পরিবর্তে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্তের উত্তমাশা অন্তরীপের (কেপ অব গুড হোপ) আশপাশের এলাকা ব্যবহার করছে। এতে পণ্য সরবরাহে বেশি সময় লাগছে। কারণ, বিকল্প পথে জাহাজগুলোকে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার নটিক্যাল মাইল পথ বাড়তি পাড়ি দিতে হচ্ছে।

সুয়েজ খাল হয়ে ইউরোপ ও ভূমধ্যসাগরকে এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করেছে লোহিত সাগর। বর্তমানে বিশ্বের ১২ শতাংশ পণ্যবাহী জাহাজ লোহিত সাগর ব্যবহার করে। দৈনিক গড়ে ৫০টি জাহাজ ব্যবহার করছে এই জলপথ। এসব জাহাজে ৩০০ থেকে ৯০০ বিলিয়ন ডলারের কার্গো পরিবহন করা হয়। প্রতিবছর এই রুট ব্যবহার করে এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য পরিবহন করা হয়।  

Advertisement

মেরিট্রেসের তথ্যে দেখা গেছে, গত ডিসেম্বরে লোহিত সাগরে গড়ে ৭৬টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল করেছে, যা আগের মাসে চলাচলকারী গড় জাহাজের তুলনায় মাত্র দুটি কম।

জানুয়ারির শুরুতে হুতি বিদ্রোহীরা ঘোষণা দেয়, লোহিত সাগরে তাদের জলসীমায় প্রবেশের আগে যেকোনো জাহাজকে এর মালিকানা ও গন্তব্য জানাতে হবে। তাহলে ওই জাহাজে গুলি করা হবে না।

তবে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জাহাজ কোম্পানি মায়ার্স্ক ও হাপাগ-লয়েড বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তি করতে রাজি হয়নি।

জানা গেছে, হামলা শুরুর পর ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে লোহিত সাগরে ইসরায়েলের একমাত্র বন্দর এলিয়াতের কার্যক্রম ৮৫ শতাংশ কমে গেছে। পাশাপাশি জ্বালানি ও মানবসম্পদের ব্যয় বেড়েছে। ফলে বেড়ে গেছে বিমা খরচ। এ কারণে ইসরায়েলের অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।

হুথিরা ঘোষণা দিয়েছে, ইসরায়েল থেকে বা ইসরায়েলগামী যেকোনো জাহাজে তারা হামলা চালাবে। এর ফলে পরিস্থিতি আরো জটিল ও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

গাজায় ইসরায়েলি হামলা বন্ধ না হলে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করবে না। তারা গাজায় আরো বেশি খাবার ও ওষুধ পাঠানোর দাবিও করছে।

ইসরায়েলে চলাচল করা জাহাজগুলোর বড় একটি অংশ ভূমধ্যসাগরের হাইফা ও আশদদ বন্দর ব্যবহার করে। তবে এলিয়াত বন্দর ব্যবহার করা হয় মৃত সাগরের পটাশ রফতানি ও চীনের উৎপাদিত গাড়ি আমদানি করতে। ইসরায়েলের ৭০ শতাংশ বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) আমদানি এলিয়াত বন্দরের ওপর নির্ভরশীল।

চলতি সপ্তাহে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত পণ্যবাহী জাহাজ কসকো ভর্তুকি দিয়েছে। এছাড়া ওয়িরেন্ট ওভারসিজ কনটেইনার লাইন (ওওসিএল) ইসরায়েলে শিপমেন্ট (চালান) বাতিল করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যকার আটটি প্রধান রুটে চলাচলকারী পণ্যবাহী জাহাজের হিসাব রাখে ড্রেউরি ওয়ার্ল্ড কনটেইনার। তাদের সূচক অনুযায়ী, চীন থেকে ইউরোপে ৪০ ফুট দীর্ঘ কনটেইনার পাঠানোর খরচ ২৪৮ শতাংশ বেড়েছে। নভেম্বরে যখন হামলা হয়, তখন একই কনটেইনার পাঠাতে খরচ পড়ত ১ হাজার ১৪৮ ডলার।

ড্রেউরির কটেইনার গবেষণা বিভাগের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক সাইমন হেনি বলেন, জাহাজ কোম্পানিগুলো কীভাবে সাড়া দেয়, তার ওপর সবকিছু নির্ভর করছে। যেকোনো স্থানে পণ্য পরিবহনের মোট খরচ ৩ থেকে ২১ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে।

জানা গেছে, লোহিত সাগরে হুতিদের হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট তৎপরতা শুরু করেছে। তারা হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করতে এই অঞ্চলে প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে।
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!