শনিবার (২৭ জানুয়ারি) এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ।
প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে ভয়াবহ আন্তঃসীমান্ত সংঘর্ষের এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পর এ খবর এলো।
.png)
মেহের নিউজ এজেন্সির উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে ইরানের সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশের সারাভান শহরের সিরকান পাড়ার একটি বাড়িতে এদিন সকালে অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র ব্যক্তিরা ৯ অইরানিকে হত্যা করেছে।
এখনো পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তি এ হামলার দায় স্বীকার করেননি।
এদিকে নিহতরা পাকিস্তানি শ্রমিক বলে বেলুচ অধিকার গোষ্ঠী হালভাশ তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, যারা একটি গাড়ি মেরামতের দোকানে থাকতেন এবং সেখানেই কাজ করতেন। এতে আরো তিনজন আহত হয়েছেন বলেও তারা জানিয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি বলেছে, দুই দেশের মধ্যে বিভক্ত বেলুচিস্তানের অসুরক্ষিত সীমান্ত অঞ্চলে বিরল সামরিক পদক্ষেপের পর এই প্রাণঘাতী হামলা হয়েছে।
ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের কারণে ইতিমধ্যে সেখানে আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়েছে। সিস্তান-বেলুচিস্তান শিয়া অধ্যুষিত ইরানের কয়েকটি প্রধান সুন্নি মুসলিম প্রদেশের মধ্যে একটি। আন্তঃসীমান্ত মাদক চোরাচালানকারী দল, বেলুচি জাতিগত সংখ্যালঘুর বিদ্রোহী এবং জিহাদিদের সৃষ্ট ক্রমাগত অস্থিরতা দেখেছে প্রদেশটি।
ইরান পাকিস্তানের ভূখণ্ডে হামলা চালানোর দুই দিন পর ১৮ জানুয়ারি ইসলামাবাদ ইরানে ‘জঙ্গি লক্ষ্যবস্তুতে’ বিমান হামলা শুরু করে।
তেহরান বলেছে, তারা জইশ আল-আদলকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এই জিহাদি গোষ্ঠীটি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানে মারাত্মক হামলা চালিয়েছে। ২০১২ সালে গঠিত গোষ্ঠীটিকে ইরান একটি ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত করে।
ইরানের হামলায় অন্তত দুই শিশু নিহত হয়েছে বলে পাকিস্তান জানিয়েছে। ইসলামাবাদ এ হামলার তীব্র তিরস্কার করেছে, তেহরান থেকে রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করেছে এবং ইরানের রাষ্ট্রদূতকে ইসলামাবাদে ফিরে যেতে বাধা দিয়েছে।
পাকিস্তানের হামলায় ৯ জন নিহত হলে তেহরান ইসলামাবাদের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকেও তলব করে। দুই দেশ অবশ্য গত সোমবার ঘোষণা করেছে, তারা উত্তেজনা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং দুই রাষ্ট্রদূত তাঁদের পদে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে কূটনৈতিক মিশন পুনরায় শুরু করেছে।