সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, সোমবার (১৫ জানুয়ারি) অঞ্চলটির উত্তরে চালানো রাতভর বিমান হামলায় একটি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে এতে আশ্রয় নেয়া একটি পরিবারের সব সদস্যসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, পরিবারটির বাবা-মা এবং তাদের ছোট ছোট বাচ্চারা ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর হামলায় প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া আরো বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। তাদের ইউরোপীয়ান গাজা হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছে।
.png)
এদিকে দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যসহ কমপক্ষে সাতজন নিহত হয়েছে। তারা একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল। ওই বাড়িটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি সেনারা। রাতভর ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গাজার পরিস্থিতি দিন দিন আরো ভয়াবহ হয়ে উঠছে। সেখানে খাবার-পানির তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। কিন্তু মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে কোনো ধরনের ত্রাণ সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। জাতিসংঘের মানবাধিকার সমন্বয় বিষয়ক কার্যালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ উত্তর গাজায় ওষুধ এবং জ্বালানি সরবরাহ করতে দিচ্ছে না।
গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় কমপক্ষে ১৩২ জন নিহত হয়েছে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা নিউজ এজেন্সি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। জাতিসংঘের বেশ কয়েকটি সংস্থা গাজায় দ্রুত এবং নিরাপদভাবে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার অনুমতি পাওয়ার আবেদন জানিয়েছে। গাজার মানুষ এখন দুর্ভিক্ষ এবং নানা রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছে।
গাজায় গত ৭ অক্টোবরের পর থেকে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ২৪ হাজা ২৮৫ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো ৬০ হাজার ৮০০ জন। প্রায় প্রতিদিনই শত শত ফিলিস্তিনিকে হত্যা করছে ইসরায়েলি বাহিনী।
উত্তর গাজায় চিকিৎসাসেবাও সীমিত হয়ে গেছে। ইসরায়েলি হামলায় একের পর এক হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। কোনো হাসপাতালই এখন আরো পরিপূর্ণ সেবা দেওয়ার অবস্থায় নেই বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের সীমান্তে প্রবেশ করে আকস্মিক হামলা চালায় ফিলিস্তনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এরপরেই গাজায় পাল্টা আক্রমণ চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। গাজার এমন কোনো স্থান এখন বাকি নেই যেখানে ইসরায়েলি বাহিনী তাণ্ডব চালায়নি।