ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

ভূমিকম্পরোধী স্থাপনা গড়তে জাপানের পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:৫৩, ৭ জানুয়ারি ২০২৪
ভূমিকম্পরোধী স্থাপনা গড়তে জাপানের পরিকল্পনা
ছবি- সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকাগুলোর অন্যতম জাপান। প্রায়ই দেশটিতে এ প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়। বড় ভূমিকম্পের কারণে একাধিকবার সুনামিতেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির। তবে সব প্রতিকূলতাকে মোকাবিলা করে টিকে থাকতে জাপানের মানুষ সবসময়ই দেখিয়েছেন অদম্য সাহস। ভূমিকম্পের বিষয়টি মাথায় রেখে দেশটিতে নির্মাণ করা হয়েছে নানা স্থাপনা।

জাপানের পশ্চিম উপকূলের ইশিকাওয়া এলাকায় গত সোমবার আঘাত হানে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প। 

কর্তৃপক্ষ বলছে, এতে ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্র এখনও জানা যায়নি। ওই অঞ্চলের কমপক্ষে ২৭০টি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে মাত্র ২০ মাইল দূরে ২৭ হাজারের বেশি মানুষের শহর সুজু বা ওয়াজিমার ক্ষয়ক্ষতি এতে উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে ২০০টি ভবন ধসে পড়েছে। 

Advertisement

ইউনিভার্সিটি অব টোকিওর ভূমিকম্পবিদ্যার ইমেরিটাস অধ্যাপক রবার্ট গেলার বলেন, ভূকম্পনে ইশিকাওয়ার অপেক্ষাকৃত কম ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

সিএনএনকে তিনি বলেন, আধুনিক ভবনগুলো বেশ ভালো করছে। তবে যেসব পুরোনো ভবনের ওপরে কাদামাটির টাইলসের ছাদ, সেগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অধিকাংশ বাড়িঘর ক্ষয়ক্ষতি হলেও ধসে পড়েনি। 

ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) নগরায়ণ ও প্রকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মিহো মাজেরিউ বলেন, ‘আপনি অনেক ভবন, বিশেষ করে হাসপাতাল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে এ ধরনের রাবারের (ডাম্পার) ওপর নির্মিত হতে দেখবেন, যাতে ভবনগুলো নিজেরাই এদিন ওদিক হতে পারে।’ 

কার্যত এটা একটি ধারণা থেকে এসেছে– মাটির গতিকে প্রতিরোধ না করে ভবনকে তার সঙ্গে দুলতে দিন। জাপানে এ নিয়ম চলে আসছে কয়েক শতক ধরে। যেখানে ভূমিকম্পে অনেক আধুনিক স্থাপনা টিকে থাকতে হিমশিম খায়, সেখানে দেশটির অনেক কাঠ-নির্মিত প্যাগোডাও টিকে আছে। ১৯৯৫ সালের গ্রেট হানসিন ও কোবে ভূমিকম্পের সময় অনেক ভবন ধসে পড়লেও সটান দাঁড়িয়ে ছিল ১৭ শতকে নির্মিত ১৮০ ফুট উঁচু তোজি মন্দির।

প্রতিবেশী কোরিয়া ও চীনের স্থাপত্যের সঙ্গে জাপানের স্থাপনার অনেক মিল। তবে দেশটির ভূমিকম্প প্রবণতা এ ভবনগুলোকে সেগুলো থেকে আলাদা করেছে। জাপানের মন্দিরগুলোর বেশির ভাগ টিকে থাকার পেছনে ‘শিনবাশিরা’কে কৃতিত্ব দেওয়া হয়। এটা কাঠের তৈরি কেন্দ্রীয় থাম, যা মন্দিরগুলোতে ১ হাজার ৪০০ বছরের বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

জাপান তাদের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ভূমিকম্প প্রতিরোধী ভবন তৈরির প্রক্রিয়া বছরের পর বছর ধরে এগিয়ে নিয়েছে। ১৯৯৫ সালের ভূমিকম্পের পর দেশটিকে পুরোনো ভবন সংস্কারের দাবি ওঠে। এর পরই অনেক ভবন নতুন করে সংস্কার করা হয়েছে ভূমিকম্প প্রতিরোধী ব্যবস্থা জোরালো করার মাধ্যমে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআইএ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!